কলকাতা টাইমস নিউজ ডেস্ক :
বিরল প্রাণীসম্পদ পাচার রুখতে ফের বড় সাফল্য পেল ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল বিউরো (Wildlife Crime Control Bureau) এবং ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল সেল (Wildlife Crime Control Cell)। কলকাতার হাজরা মোড় এলাকা থেকে চারটি বিরল হাতির দাঁত সহ চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল যৌথ দল। অভিযোগ, এই হাতির দাঁতগুলি বেআইনি ভাবে পাচার করা হচ্ছিল, তবে তার আগেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশের স্পেশাল টিম অভিযানে নামে এবং সফলভাবে অভিযুক্তদের পাকড়াও করে।
সূত্রের খবর, ধৃত চারজনের বাড়ি ঝাড়খণ্ড ও বিহার এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরেই এরা হাতির দাঁত পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানা গিয়েছে। গোয়েন্দাদের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, কলকাতার হাজরা মোড়ে বিরল প্রজাতির হাতির দাঁত পাচার করতে আসছে একদল পাচারকারী। সেই খবর পাওয়ার পরই ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল বিউরো এবং ক্রাইম কন্ট্রোল সেল-এর যৌথ উদ্যোগে পরিকল্পিত অভিযান চালানো হয়।
গোয়েন্দারা প্রথমে ক্রেতা সেজে পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাদের বিশ্বাস অর্জন করে। এরপর নির্ধারিত জায়গায় বৈঠকের পরিকল্পনা হয়। ঠিক হয়, চারটি হাতির দাঁতের বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা লেনদেন হবে। সেই পরিকল্পনামত নির্দিষ্ট দিনে হাজরা মোড়ে চারজন পাচারকারী হাজির হয় এবং হাতির দাঁত দেখানোর পরই তাদের হাতেনাতে পাকড়াও করে গোয়েন্দারা।
অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দারা চারটি বিরল হাতির দাঁত উদ্ধার করে, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই হাতির দাঁতগুলি মূলত আফ্রিকার হাতিদের হতে পারে, যা বেআইনি ভাবে ভারতীয় বাজারে পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও এখনও গোয়েন্দারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এই পাচারচক্রের মূল পান্ডাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
গ্রেফতার হওয়া চারজনের মধ্যে দু’জন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এবং বাকি দু’জন বিহারের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিরল প্রাণীর অংশ পাচারের সঙ্গে যুক্ত এবং আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সদস্য বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল বিউরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইন, ১৯৭২-এর অধীনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়াও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হতে পারে।
অন্যদিকে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই পাচারকারীরা আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত এবং তারা হাতির দাঁত ছাড়াও বাঘের চামড়া, গণ্ডারের শিং, সাপের বিষ ইত্যাদি বিভিন্ন অবৈধ পশুপণ্য পাচারের কাজে লিপ্ত।
ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল সেল-এর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই পাচারচক্রের মূল পান্ডাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে আগামী দিনে আরও অভিযান চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
অপরদিকে ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল বিউরো এবং সেল-এর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ যদি বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত কোনও বেআইনি কার্যকলাপ বা পাচারের খবর পায়, সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশন বা ক্রাইম কন্ট্রোল সেলে যোগাযোগ করার আবেদন জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় ফের একবার প্রমাণিত হলো যে, বন্যপ্রাণ পাচার বন্ধে প্রশাসন কতটা সজাগ এবং কঠোর। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে, আর এই চক্রের মূল পান্ডাদের কীভাবে ধরা হবে, সেটাই এখন দেখার।