কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
চারধাম যাত্রা, হিন্দু ধর্মের অন্যতম পবিত্র তীর্থযাত্রা, এবার প্রকৃতির রোষে বিপর্যস্ত। প্রবল বর্ষণের জেরে উত্তরাখণ্ডের যমুনোত্রী ও বদ্রীনাথ তীর্থপথে একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। পাহাড়ি রাস্তা জুড়ে ধ্বসের ফলে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩ জন তীর্থযাত্রীর, নিখোঁজ হয়েছেন আরও একজন। আটকে পড়েছেন বহু যাত্রী। আপাতত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে যাত্রাপথ। ফলে অসংখ্য তীর্থযাত্রী বিপাকে পড়েছেন।
সোমবার সকালেই প্রথম ধস নামে যমুনোত্রী যাওয়ার পথে। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসে পড়ে যাত্রীবোঝাই একটি গাড়ির ওপর। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনজন, যাঁদের পরিচয় এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আরেকজন তীর্থযাত্রী এখনও নিখোঁজ। স্থানীয়রা ও প্রশাসন আশঙ্কা করছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন।
যমুনোত্রী ও বদ্রীনাথের সংযোগকারী প্রধান রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার তীর্থযাত্রী। কেউ আটকে আছেন রাস্তায়, কেউ বা অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। খাবার, পানীয় জল এবং চিকিৎসার ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই খাবার ও ওষুধ পাঠানো শুরু হয়েছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় উত্তরাখণ্ড রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং স্থানীয় পুলিশ। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। বন্ধ রাস্তা খোলার জন্য লাগানো হয়েছে বুলডোজার ও পাথর কাটার যন্ত্র।
উত্তরকাশী জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, “তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া ঠিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে।”
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আগামী কয়েকদিন উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি জেলাগুলিতে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই চারধাম যাত্রাপথে আরও ধস নামার আশঙ্কা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং নতুন করে যাত্রা শুরু না করার পরামর্শ দিয়েছে।
উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে, যারা এখনও রওনা হননি, তারা কিছুদিন অপেক্ষা করুন। যাঁরা আটকে আছেন, তাঁদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। প্রশাসন নিয়মিতভাবে পরিস্থিতির আপডেট দিচ্ছে। তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এখন মুখ্য লক্ষ্য।
এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, পাহাড়ি পথে বর্ষাকালীন চারধাম যাত্রা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও প্রশাসনের নির্দেশকে উপেক্ষা না করেই তীর্থযাত্রা পরিকল্পনা করার বার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।




