spot_img
24.3 C
Kolkata
Friday, October 9, 2026
spot_img

“স্মৃতির ভার বইতে চেয়ে হাইকোর্টে মা-বাবা — আরজি কর ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আবেদন”

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা : 

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সেই নির্জন ঘর—যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন এক তরুণী চিকিৎসক। এক বছরেরও বেশি কেটে গেছে। বিচারের রায়ও ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু মেয়েকে হারানো মা-বাবার মনে একটাই না বলা যন্ত্রণা: “মেয়েটা কোথায়, কীভাবে পড়েছিল? শেষবার কোথায় ছিল?” — এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তাঁরা এখন চেয়ে বসেছেন আদালতের দ্বারস্থ।

সোমবার, কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদনের মাধ্যমে সেই ‘ঘটনাস্থল’ বা ‘প্লেস অফ অকারেন্স’ পরিদর্শনের অনুমতি চেয়েছেন তরুণী চিকিৎসকের মা, বাবা এবং তাঁদের আইনজীবী। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করেন পরিবারের আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। তিনি জানান, ঘটনাস্থল স্বচক্ষে দেখার অধিকার থাকা উচিত নিহতের পরিজনদের—সেই জায়গায় গিয়ে তাঁরা হয়তো কিছু প্রশ্নের উত্তর পাবেন, যেগুলি বছরের পর বছর মনের ভেতরে দগদগে হয়ে আছে।

আবেদন অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানি হতে পারে।

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মরত এক তরুণী চিকিৎসককে, হাসপাতালেরই একটি ঘরে, ধর্ষণ ও খুন করা হয়। দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। হাসপাতালের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে দ্রুত গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সিবিআই তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য। শিয়ালদহ আদালত দোষী সাব্যস্ত করে সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাবাসে দণ্ডিত করে।

মেয়ের হত্যাকারী সাজা পেলেও পরিবার জানায়, “আইনি রায় পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু মনের মধ্যে এখনও যে অজানা শূন্যতা, তা কাটছে না। আমরা দেখতে চাই, শেষবার কোথায় ছিল ও। সেই জায়গা একবার ঘুরে দেখতে চাই। নিজের চোখে দেখে অন্তত মনের ভার কিছুটা হালকা করতে চাই।”

এই আবেগঘন আবেদন আইনত কতটা গ্রাহ্য হবে, তা ঠিক করবেন বিচারপতি। তবে মানবিক দিক থেকে বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত বহু আইন বিশেষজ্ঞের।

এই আবেদন নিছক এক ‘পরিদর্শনের’ অনুরোধ নয়। বরং এটি এক দগ্ধ হৃদয়ের শেষ চাহিদা—শেষবারের মতো সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজের মেয়ে, নিজের স্বপ্ন আর হারানো পৃথিবীর সামনে একটিবার চোখ রাখা।
পরিবারের এই আবেদন শুধু বিচারপ্রক্রার অংশ নয়, এটি সেই শোকের পরিণত রূপ, যেখানে ‘ন্যায়’ মানে শুধু সাজা নয়—বরং স্মৃতি, সম্মান এবং সান্ত্বনার এক অপূর্ণ অধ্যায় পূর্ণ করে তোলা।

বৃহস্পতিবার এই আবেদন নিয়ে শুনানি হবে কলকাতা হাইকোর্টে। দেখা যাক, মেয়ে হারানো মা-বাবার শেষ চাহিদাকে আইন কোন মানবিক চোখে দেখে। দেশবাসীর নজর থাকবে সেই বিচারপ্রক্রার দিকেই।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks