কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব প্রতিনিধি :
নিউ আলিপুরের ভোররাতে ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক এক ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে কলকাতা পুলিশের একটি অংশ। অভিযোগ, ট্রাকচালকদের থেকে তোলা আদায় করতে না পেরে রাস্তায় দাঁড় করানো একাধিক ট্রাকে চাকা পাংচার ও ভাঙচুর চালায় পুলিশকর্মীরাই। আর গোটা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে চারজন সাব-ইনস্পেক্টরকে বুধবার সাসপেন্ড করল লালবাজার।
সূত্র অনুযায়ী, সাসপেন্ড হওয়া চার সাব-ইনস্পেক্টরের মধ্যে সকলেই নিউ আলিপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ আলিপুর মোড়ে পার্কিং করে রাখা ট্রাকগুলিকে লক্ষ্য করে আচমকা হামলা চালানো হয়। বুধবার সকালে ৩৫-৪০ জন ট্রাকচালক প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা প্রধান রাস্তায় ট্রাক দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং পরিষ্কারভাবে অভিযোগ তোলেন পুলিশের বিরুদ্ধেই।
চালকদের একাংশের দাবি, পুলিশ তাঁদের কাছে ‘তোলা’ চাইছিল। তাঁরা দিতে অস্বীকার করলে রাতেই ট্রাকগুলিতে পাথর ছোড়া হয়, কিছু ট্রাকের কাচ ভাঙা হয় এবং একাধিক গাড়ির চাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফুটো করে দেওয়া হয়। সারা শহর যেখানে টানা বৃষ্টির জেরে জল জমে নাজেহাল, তার ওপর নিউ আলিপুর মোড় অবরোধ হয়ে যাওয়ায় শহরের দক্ষিণাংশে যানজটের ভয়াবহ ছবি তৈরি হয়।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সেখানেই পুলিশের পোশাক পরা কিছু ব্যক্তিকে ট্রাকগুলির সামনে ঘোরাঘুরি করতে এবং ভাঙচুর চালাতে দেখা যায়। এই ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে নিউ আলিপুর থানার চার সাব-ইনস্পেক্টরকে ‘ইমিডিয়েট ইফেক্ট’ এ সাসপেন্ড করে লালবাজার।
প্রাক্তন আইপিএস অফিসার কল্যাণ মুখোপাধ্যায় বলেন, “এত দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এতে বোঝা যায়, পুলিশ মহল নিজস্ব সদস্যদের দুষ্কর্মের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। তবে শুধু সাসপেনশন নয়, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।”
পুলিশের তরফে যদিও দাবি করা হয়েছে, যত্রতত্র বেআইনি পার্কিংয়ের কারণেই অভিযুক্ত ট্রাকগুলোকে সরাতে চাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তাতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও অধিকার পুলিশের নেই। অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়, কিন্তু ভাঙচুর বা হেনস্থার অধিকার কোনও সরকারি কর্মচারীরও নেই— এমনটাই মত বিশিষ্টজনদের।
নগরবাসীর বিশ্বাস এবং পুলিশের নিরপেক্ষতা— দুই-ই রক্ষার জন্য এ ধরনের অভিযোগে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। চার অফিসারকে সাসপেন্ড করায় প্রাথমিক বার্তা দেওয়া গেলেও, গোটা ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার পূর্ণতা না পাওয়া পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— পুলিশ কি সবসময় মানুষের রক্ষক নাকি মাঝে মাঝে হয়ে ওঠে শাসকের প্রতিচ্ছবি?




