কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব প্রতিবেদন :
‘এক দেশ, এক নির্বাচন ’ পদ্ধতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। কেউ এই পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, আবার কেউ এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের উপর ‘অসীম ক্ষমতা’ দেওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। সর্বোচ্চ আদালতের দুই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং জেএস কেহর সম্প্রতি এক যৌথ সংসদীয় কমিটির (JPC) বৈঠকে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বিষয়ক ১২৯তম সংবিধান সংশোধনী বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংশোধনী বিল ২০২৪ নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিজেপি সাংসদ পিপি চৌধুরী। এই বৈঠকে ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও জেএস কেহর স্পষ্ট জানান, “নির্বাচন কমিশনকে এই সংশোধনী বিলের মাধ্যমে সীমাহীন ক্ষমতা দেওয়া হলে, তা সাংবিধানিক ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। প্রয়োজন একটি ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ পদ্ধতির।”
তাঁরা আরও পরামর্শ দেন, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মের উপর একটি নিরপেক্ষ তদারকি ব্যবস্থার কথাও ভাবা উচিত। সূত্রের খবর, এক বিচারপতি বলেন, “একটি নির্বাচিত সরকারের পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ থাকা আবশ্যক, যা সুশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও অবস্থাতেই সেই মেয়াদ খর্ব করা উচিত নয়।”
চন্দ্রচূড় অতীতে বলেছিলেন, “যদি সরকারের মেয়াদ এক বছরেরও কম হয়, তবে অর্থপূর্ণ কোনও প্রকল্প গ্রহণ করা কঠিন হবে। কারণ নির্বাচন ঘনিয়ে এলে মডেল কোড অব কন্ডাক্ট কার্যকর হয়ে যাবে, যার ফলে প্রশাসনিক কাজ থমকে যাবে।”
বৈঠকের পর সংসদীয় কমিটির প্রধান পিপি চৌধুরী বলেন, “এই বিলের যদি কোনও সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তবে আমরা করব। তবে এই ব্যবস্থা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।” তাঁর মতে, “এক দেশ, এক নির্বাচন” জাতি গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় পদক্ষেপ।
এর আগেও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এই বিলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া ‘সুইপিং পাওয়ার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অন্যদিকে, প্রাক্তন বিচারপতি কৃষ্ণ মুরারী সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেন, “এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য সংলাপই একমাত্র পথ। আমাদের গণতন্ত্র সংলাপের ভিত্তিতেই দাঁড়িয়ে।”
আল্লাহাবাদ হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি শম্ভুনাথ শ্রীবাস্তবও একই সুরে বলেন, “‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ এখন সময়ের দাবি। এতে দেশে বিপুল অর্থ ও সম্পদ সাশ্রয় হবে। সময় এসেছে, এই উদ্যোগকে সর্বাত্মকভাবে সমর্থন করা উচিত।”
যদিও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ধারণাকে ‘সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী’ বলে কটাক্ষ করেছেন, তবে বেশিরভাগ আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানে কোথাও স্পষ্টভাবে আলাদা দিনে কেন্দ্র ও রাজ্যের নির্বাচন বাধ্যতামূলক বলা হয়নি। তাই এই প্রস্তাব সংবিধানের পরিপন্থী নয় বলেই মত তাঁদের।
‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী ধারণা। তবে তার সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর উপর। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিদের সরব হওয়া এই বিতর্ককে আরও জোরদার করল। এখন দেখার, সরকার ভবিষ্যতের পথে কোন ভারসাম্য রচনার সিদ্ধান্ত নেয়।




