কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজ্যের চাঞ্চল্যকর আরজি কর মেডিকেল কলেজ ধর্ষণ ও খুন মামলায় এক নতুন মোড়। মূল অভিযুক্ত হিসেবে আমৃত্যু কারাবাসে দণ্ডিত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় বেকসুর খালাসের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করলে, তা গ্রহণ করল বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। মামলার শুনানি হবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে।
আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, সঞ্জয় রায়ের মামলার শুনানি হবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের মূল তদন্ত সংক্রান্ত মামলার সঙ্গেই। একইসঙ্গে বিচারপতিরা মত দিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবার চাইলে বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে পারবে।
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট রাতে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় এক চিকিৎসা পড়ুয়ার নিথর দেহ। দ্রুত তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশ, এবং ধরা হয় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে। পরে তদন্তের ভার দেওয়া হয় সিবিআইকে, যাঁরা চার্জশিটে সঞ্জয়কেই একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে।
১১ নভেম্বর ২০২৪ থেকে শুরু হয় বিচারপর্ব। মাত্র ১৬৪ দিনের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা করে শিয়ালদহ আদালত। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি বিচারক অনির্বাণ দাস সঞ্জয়কে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।
শুরু থেকেই নিজের নির্দোষিতা দাবি করে এসেছে সঞ্জয় রায়। তার বক্তব্য, তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, নির্যাতিতার পরিবারও বারবার বলেছে, প্রকৃত অপরাধী এখনও ধরা পড়েনি। সঞ্জয়কে সামনে রেখে আসল দোষীকে আড়াল করার চক্রান্ত হয়েছে।
মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই সিবিআই তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে নির্যাতিতার পরিবার। তারা চেয়েছিল ঘটনাস্থল ঘুরে দেখতে, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলতে। সেই আবেদনে নিম্ন আদালত সাড়া না দিলেও, এখনও কলকাতা হাই কোর্টে পুনঃতদন্তের একটি আবেদন বিচারাধীন।
এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নারী নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাংশ। মামলার রায় দ্রুত হলেও তদন্তে ‘গোচালো ফাঁকফোকর’ ছিল বলে দাবি করেছেন অনেক আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বুধবার আদালত জানিয়েছে, আবেগ নয়, আইন মোতাবেক শুনানি হবে। সঞ্জয় রায়ের দায়ের করা আবেদন আইনি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
রাজ্যের অন্যতম চাঞ্চল্যকর এই মামলায় হাই কোর্টে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। সঞ্জয় রায় আদৌ ফাঁসানো হয়েছেন, নাকি সিবিআইয়ের তদন্ত যথাযথ — সবকিছু নির্ভর করবে বিচারালয়ের ভবিষ্যৎ নির্দেশনার উপর। সেপ্টেম্বরের শুনানিতে এই মামলার মোড় ঘুরবে কি না, তার দিকেই নজর গোটা রাজ্যের।




