কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
মাঝআকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে আতঙ্ক ছড়াল দিল্লি থেকে গোয়াগামী ইন্ডিগো বিমানে। বিমান চলাকালীন হঠাৎ ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে পাইলট ‘PAN PAN PAN’ সংকেত পাঠান এবং দ্রুত মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেন। তবে যাত্রী ও ক্রু—সবাই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইন্ডিগোর 6E-6271 নম্বর ফ্লাইটটি দিল্লি থেকে গোয়ার উদ্দেশ্যে উড়েছিল। তবে সন্ধ্যা নাগাদ মাঝআকাশে বিমানের প্রথম নম্বর ইঞ্জিনে ত্রুটি ধরা পড়ে। পাইলট সঙ্গে সঙ্গে ‘PAN PAN PAN’ বার্তা পাঠান, যা একটি আন্তর্জাতিক বিপদ সংকেত—যদিও এটি প্রাণঘাতী নয়, তবে অবিলম্বে সাহায্যের ইঙ্গিত বহন করে।
এই সংকেত পাওয়ার পরেই বিমানবন্দরে ‘ফুল ইমারজেন্সি’ পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয় এবং সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয় জরুরি অবতরণের জন্য।
মুম্বই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “বিমানটি সন্ধ্যা ৯টা ৩৫ মিনিটে জরুরি অবতরণের ঘোষণা করে এবং ৯টা ৫২ মিনিটে সুরক্ষিতভাবে রানওয়েতে নামে। পাঁচ মিনিট পরে ‘ফুল ইমারজেন্সি’ পরিস্থিতি প্রত্যাহার করা হয়।”
ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “১৬ জুলাই দিল্লি থেকে গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া 6E-6271 নম্বর ফ্লাইটে একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়। প্রোটোকল অনুযায়ী, বিমানটিকে মুম্বইয়ে ডাইভার্ট করে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।”
যদিও ঠিক কতজন যাত্রী বিমানটিতে ছিলেন, তা প্রকাশ করেনি ইন্ডিগো, তবে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “সমস্ত যাত্রীদের জন্য একটি বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছে যা শীঘ্রই গোয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।” সেই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ বিমানটিকে বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দরের মুখপাত্র আরও জানান, “যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে। টার্মিনালের কর্মীরা তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য করেছেন। বিমানের যাত্রাপথ পরিবর্তনের ফলে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্মে কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। যাত্রীদের জন্য বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা চলছে।”
এই ঘটনার একদিন আগেই পাটনার জয়প্রকাশ নারায়ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ইন্ডিগো বিমান অবতরণের সময় আবার আকাশে উঠে যায় ‘অনিয়মিত অ্যাপ্রোচ’ অর্থাৎ অস্থির গতিপথের কারণে। সেই ফ্লাইটেও ১৭৩ জন যাত্রী ছিলেন। তবে দ্বিতীয়বার চক্কর দিয়ে বিমানটি নিরাপদে নামানো সম্ভব হয়।
টানা দু’দিনে ইন্ডিগোর দুটি বিমানে জটিলতা বিমান নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও প্রতিটি ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই, তবুও যাত্রীদের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ফ্লাইট সুরক্ষায় আরও কড়াকড়ি প্রয়োজন।




