কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
ভোটের ঢাকে কাঠি পড়েনি এখনও, কিন্তু বিহারে নির্বাচনী মরসুম শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তার বড় প্রমাণ মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের একের পর এক জনমুখী প্রকল্প ঘোষণা। বুধবার তিনি জানালেন, আগামী ১ অগস্ট থেকে বিহারের প্রতিটি পরিবার মাসে ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাবেন।
এই ঘোষণা বিহারের প্রায় ১ কোটি ৬৭ লক্ষ পরিবারকে সরাসরি প্রভাবিত করতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আমরা প্রথম দিন থেকেই প্রতিটি নাগরিককে সুলভ মূল্যে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ১ অগস্ট থেকে মাসে ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত খরচ হলে, তার জন্য আর কাউকে টাকা দিতে হবে না।”
নীতীশ কুমারের এই ঘোষণার ফলে অগস্ট থেকেই সুবিধা শুরু হলেও, জুলাই মাসের বিলেই ১২৫ ইউনিট বা তার কম খরচের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল শূন্য হবে বলেই জানানো হয়েছে।
শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহই নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনেও নতুন করে উদ্যোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যে তাপবিদ্যুতের পাশাপাশি সৌরশক্তি উৎপাদনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী তিন বছরে ১০,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ‘কুটির জ্যোতি যোজনা’ নামে একটি নতুন প্রকল্পে গরিব পরিবারের ঘরে সৌর প্যানেল বসানোর খরচ পুরোপুরি দেবে সরকার। অন্য পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও সরকার আর্থিক সহায়তা করবে।
মহিলাদের সংরক্ষণ থেকে স্কিল ট্রেনিং—চমক একের পর এক
এর আগেও একাধিক জনমুখী ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেমন:
-
মহিলাদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩৫% সংরক্ষণ।
-
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের সামাজিক নিরাপত্তা পেনশন ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০০ টাকা।
-
‘মুখ্যমন্ত্রী প্রতিজ্ঞা যোজনা’ প্রকল্পে দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণদের প্রতি মাসে ৪০০০ টাকা সহায়তা।
-
‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং’-এ যুব সমাজকে স্বনির্ভর করার উদ্যোগ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিহারে আগামী তিন-চার মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই একের পর এক ‘জন-লোভনীয়’ প্রকল্পের ঘোষণা করছেন নীতীশ। বিরোধীদের কটাক্ষ, “জনগণের ভোট টানতেই এত ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রকল্প চালু করা হচ্ছে।”
তবে মুখ্যমন্ত্রী শিবিরের দাবি, “এটা কোনও ভোটমুখী নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা। নীতীশ কুমার সবসময় গরিব ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। এই প্রকল্পগুলি সেই দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।”
নীতীশ কুমারের এই বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প শুধু আর্থিক সাশ্রয়ই নয়, ভবিষ্যতের জন্য পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবস্থার দিকেও রাজ্যকে এগিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন নীতি-পর্যবেক্ষকরা। তবে শেষ কথা বলবে ভোটের বাক্স। কল্পতরুর এই প্রতিশ্রুতিগুলো আদৌ জনগণের মন জিততে পারে কি না, সেটা বোঝা যাবে শীঘ্রই।




