কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
একদিকে লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি, অন্যদিকে উন্নয়নের খতিয়ান দেখানো—এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোট ১২,০০০ কোটিরও বেশি টাকার বহু প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করে এক ঢিলে একাধিক পাখি মারার কৌশল মোদীর।
মোতিহারিতে আজ সকালেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার আজকের সফরে বিহারবাসীর জন্য ৭,২০০ কোটির উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা বা উদ্বোধন হবে।” এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
-
চারটি ‘অমৃত ভারত এক্সপ্রেস’ ট্রেন চালু করা হচ্ছে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লি ও লখনউয়ের দিকে।
-
দরভাঙ্গা–নরকাটিয়াগঞ্জ ডাবল লাইনের কাজ শুরু হবে, যার বাজেট ৪,০৮০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে গতি আসবে।
-
আরাহা বাইপাস চার লেন রাস্তা, পাটনা-বক্সার সংযোগকারী মহাসড়কের সম্প্রসারণ।
-
ডিজিটাল বিহার গড়তে দরভাঙ্গা ও পাটনায় নতুন সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক (STPI) চালু।
-
প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা (PMMSY)-র আওতায় গ্রামীণ মৎস্যচাষ, অলংকার মাছ চাষ ও রোজগারের নতুন সুযোগ তৈরি।
-
DAY-NRLM-এর আওতায় ৬১,০০০ স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান, মহিলাদের উন্নয়নে জোর।
প্রধানমন্ত্রী আজ PMAY-গ্রামিন প্রকল্পের আওতায় ১২,০০০ মানুষকে গৃহপ্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি, ৪০,০০০ উপভোক্তার জন্য ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ৫,০০০ কোটির উন্নয়ন প্রকল্প
বিকেলে মোদী পৌঁছান দুর্গাপুরে। পশ্চিমবঙ্গে তাঁর ঘোষণার তালিকায় রয়েছে:
-
পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় সিটি গ্যাস প্রকল্পের শিলান্যাস, যার মূল্য ১,৯৫০ কোটি টাকা।
-
উর্জা গঙ্গা প্রকল্পে দুর্গাপুর-কলকাতা গ্যাস পাইপলাইন-এর ১৩২ কিমি অংশের উদ্বোধন (মূল্য ১,১৯০ কোটি টাকা)। এটি পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও নদিয়া জেলার হাজার হাজার পরিবার ও শিল্পকে পরিষেবা দেবে।
-
দুর্গাপুর ও রঘুনাথপুরে ফ্লু গ্যাস ডেসালফারাইজেশন (FGD) ইউনিট চালু, দূষণ কমিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ।
-
পুরুলিয়া–কোচশিলা রেললাইন ডাবলিং (খরচ ৩৯০ কোটি টাকা) ও তপসী ও পাণ্ডবেশ্বরে সেতু ভারতম প্রকল্পের অধীনে রেলওভারব্রিজ উদ্বোধন।
অন্যদিকে বক্তব্যে মোদী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ আজ দুর্নীতিপরায়ণ তৃণমূলের শাসনে জর্জরিত। মানুষ এখন বিজেপির দিকে তাকিয়ে আছে নতুন আশার আলো নিয়ে।” তিনি জানান, বিজেপি এলে রাজ্যে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর শুধু প্রকল্প ঘোষণায় থেমে নেই—এর মধ্যে রয়েছে ভোটের বার্তাও। যেখানে পরিকাঠামো, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও মহিলাদের ক্ষমতায়নে জোর দেওয়া হয়েছে, সেখানে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট—উন্নয়ন চাইলে নেতৃত্ব বদল দরকার।




