spot_img
25 C
Kolkata
Sunday, December 7, 2025
spot_img

শহিদ দিবসের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা: “গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই থেকে সরব না” — অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব প্রতিবেদন :

২১ জুলাই শহিদ দিবসের আগে আবেগময় বার্তা শেয়ার করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার রাতে ফেসবুকে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই শহিদ হওয়া ১৩ জন তৃণমূল কর্মীর স্মৃতিচারণা করে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে দলকে আরও অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন।

অভিষেক তাঁর বার্তায় লেখেন,

“শহিদ দিবসে আমরা স্মরণ করি: বুলেট শরীরকে হত্যা করতে পারে, কিন্তু বিশ্বাসকে নয়। স্বৈরাচার বাংলার চেতনাকে চূর্ণ করতে পারে না। ১৯৯৩ সালে ১৩ জন সাহসী মানুষ শহিদ হয়েছিলেন — ক্ষমতার জন্য নয়, গণতন্ত্রের নীতির জন্য।”

তিনি স্পষ্টভাবে বোঝাতে চেয়েছেন, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এই আন্দোলন ছিল গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবিধানকে রক্ষা করার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের ডাকে ডেপুটেশনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ১৩ জন যুবক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেদিনের প্রতিবাদ আজ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভিত্তিকে এক নতুন দিশা দেয়।
অভিষেক এই আন্দোলনের উত্তরাধিকার মনে করিয়ে দিয়ে বলেন,

“তাঁদের সাহস এমন একটি আন্দোলন তৈরি করেছিল, যা আমাদের রাষ্ট্র ও জাতির ভাগ্য গঠন করেছিল।”

আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারকার ২১ জুলাই শহিদ সমাবেশ যে রাজনৈতিক বার্তায় পরিপূর্ণ হতে চলেছে, তার ইঙ্গিতও পাওয়া গেল এই পোস্টে।
অভিষেক লেখেন—

“আমাদের অঙ্গীকার — গণতন্ত্র এবং মাতৃভূমির প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা করার জন্য। ঐক্যের সাথে ঘৃণার মুখোমুখি হওয়ার জন্য। যারা আমাদের সংবিধান ভেঙে ফেলার স্বপ্ন দেখে তাদের বিরুদ্ধে অটলভাবে দাঁড়ানোর জন্য।”

অভিষেকের এই বার্তা শুধু শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্টতই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের বার্তা বহন করে। সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার শপথের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন রাজ্যের মানুষের আবেগকে স্পর্শ করা হয়েছে, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতেও তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

২১ জুলাইয়ের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মী ও সমর্থকদের কলকাতার দিকে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ধর্মতলায় তৈরি হচ্ছে মূল মঞ্চ। নিরাপত্তা ও পরিবহণ নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা কার্যত ২১ জুলাইয়ের আগে দলের ভেতরে ও বাইরে এক ধরনের আবেগ ও উত্তেজনার সঞ্চার করেছে। একদিকে শহিদদের শ্রদ্ধা, অন্যদিকে আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রতিরোধ— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে তৃণমূলের ‘শেষ ২১ জুলাই’ হয়ে উঠতে চলেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

 

 

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks