কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর আবারও শীর্ষ আদালতের এজেন্ডায় রাজ্যের ডিএ মামলা। কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পাওয়ার দাবিতে একাধিক বছর ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশ। সেই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৪ অগস্ট, এমনই জানা গেছে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভান্স কজ লিস্ট সূত্রে।
শুনানির দিন মামলাটি বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র-র ডিভিশন বেঞ্চে তোলা হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিচারপতি করোলের সঙ্গে এতদিন এই মামলা শুনছিলেন বিচারপতি সন্দীপ মেহতা। তবে এবার বদল ঘটেছে বেঞ্চে। বিচারপতি মিশ্র এর আগেও বিচারপতি হৃষিকেশ রায়ের সঙ্গে একবার এই মামলায় শুনানি করেছেন।
গত ১৬ মে, সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছিল— রাজ্য সরকারকে ছ’সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। সেই সময়সীমা ২৭ জুন শেষ হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে রাজ্য এই নির্দেশ মানতে পারেনি।
ডিএ বকেয়া মেটানো আপাতত সম্ভব নয়—এই যুক্তি দেখিয়ে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আরও ছয় মাস সময় চেয়ে লিখিত আবেদন করেছে। তবে মামলাকারী কর্মচারী মহলের একাংশ মনে করছে, রাজ্যের এই আবেদনের যৌক্তিকতা নেই এবং তারা চায় আদালত যেন রাজ্যের সময় চাওয়া আবেদন খারিজ করে দেয়।
সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীল জানিয়েছেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে আশাবাদী। আমাদের বিশ্বাস, এবার রাজ্যের গড়িমসির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বার্তা দেবে আদালত। রাজ্য যে সময় চেয়েছে, তা আদালত খারিজ করবে বলেই আমরা আশা করি।”
পটভূমি ও মামলা চলার ইতিহাস
• রাজ্যের সরকারি কর্মীরা বহুদিন ধরে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
• ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্ট মামলাকারীদের পক্ষে রায় দেয়।
• কিন্তু সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে।
• ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে প্রথমবার ডিএ মামলার শুনানি হয়।
ডিএ-র বিষয়টি এখন শুধু আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। আগামী ৪ অগস্টের শুনানিকে ঘিরে কর্মচারী মহলে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই মামলার রায়ের উপরই নির্ভর করছে রাজ্যের লক্ষাধিক কর্মীর ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা।
মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক দোলাচলে এবার নজর থাকবে ৪ অগস্টের শুনানিতে। সরকারি কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আশার আলো দেখছেন। এখন দেখার, আদালত রাজ্য সরকারের সময় প্রার্থনা মঞ্জুর করে কি না, নাকি শেষ পর্যন্ত কর্মীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ন্যায্য স্বীকৃতি পায়।




