কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব প্রতিনিধি :
দুর্গোৎসব মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। আর এই উৎসব ঘিরে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এবার আরও বড় ঘোষণা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন— রাজ্যের প্রতিটি দুর্গাপুজো কমিটিকে এবার ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তা, কলকাতা পুলিশের আধিকারিক ও ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’ সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। সেখানেই পুজো কমিটিগুলির অনুদান বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন তিনি।
অনুদান বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা: পিছনে ফিরে দেখা :
-
২০১৮: প্রথমবার রাজ্যের পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান – ₹১০,০০০
-
২০১৯: একধাক্কায় বাড়িয়ে – ₹২৫,০০০
-
২০২০–২০২2: ধাপে ধাপে বেড়েছে অনুদান
-
২০২3: অনুদান দাঁড়ায় – ₹৮৫,০০০
-
২০২5: এবার সরাসরি – ₹১,১০,০০০
উল্লেখ মুখ্যমন্ত্রী গত বছরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন— এবার অনুদান ছাড়াবে এক লক্ষের গণ্ডি। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হল এবার।
আর কী কী ছাড় পাচ্ছে পুজো কমিটিগুলি?
- বিদ্যুৎ বিলে ৮০% ছাড়
- ফায়ার লাইসেন্স ও অন্যান্য সরকারি ফি সম্পূর্ণ মকুব
- ড্রোন, অ্যাম্বুল্যান্স, কুইক রেসপন্স টিম – সুরক্ষা ব্যবস্থায় জোর
- পৃথক এন্ট্রি ও এক্সিট গেট রাখার নির্দেশ
- প্যান্ডেলে “কী করবেন, কী করবেন না” ব্যানার বাধ্যতামূলক
- মেট্রো পরিষেবা বৃদ্ধি নিয়ে মুখ্যসচিবকে নির্দেশ
যদিও দুর্গাপুজো অনুদান নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে এই অনুদানের টাকা ব্যবহার করা যাবে না:
-
” প্রতিমা কেনা “
-
“দশকর্মা সামগ্রী “
-
“পুরোহিত বা ঢাকির দক্ষিণা “
বরং এই অর্থ ব্যবহার করতে হবে সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে, যাতে সাধারণ মানুষের উপকার হয়। অর্থাৎ, পুজো উপলক্ষে জনস্বার্থে যেমন মেডিকেল ক্যাম্প, স্যানিটাইজেশন, পথনিরাপত্তা ক্যাম্প করা যেতে পারে।
একইসাথে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে কলকাতা দুর্গাপুজো কার্নিভাল। রাজ্যের বহু নামী পুজো এই কার্নিভালে অংশ নেয়, যা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও একটি বড় আকর্ষণ। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা:
“দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে রাজ্যের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই উৎসব যাতে নির্বিঘ্নে হয়, সুন্দর হয়, তার জন্য রাজ্য সরকার পাশে আছে এবং থাকবে।”
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শুধু আবেগ নয়, বরং এটি রাজ্যের অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি। ছোট-বড় পুজো মিলে লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা, পর্যটন এবং সংস্কৃতি—সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায় এই সময়। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এহেন সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে পুজো উদ্যোক্তাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।




