spot_img
34.6 C
Kolkata
Monday, October 12, 2026
spot_img

মুম্বইয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলায় ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ! ডায়মন্ড হারবারের যুবক আটক, উদ্ধারে টিম পাঠালেন সাংসদ অভিষেক !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব প্রতিনিধি : 

বাঙালি পরিচয় যেন অপরাধ! মুম্বইয়ের বান্দ্রায় একের পর এক পরিযায়ী শ্রমিককে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এবার সেই তালিকায় উঠে এল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের এক যুবকের নামও। তাঁর খোঁজে এবং বাকি আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু মহারাষ্ট্রের বান্দ্রা। অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশের কাছে বাংলা ভাষায় কথা বললেই তাঁদের বাংলাদেশি মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার থেকেই রাজ্যের বেশ কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিককে বান্দ্রায় আটক করে রাখার খবর ছড়ায়। এই শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন বিষ্ণুপুরের জুলপিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাবাই সর্দার (২৬)। গত আট দিন ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বাবাইয়ের।

তাঁর বাবা দেবু সর্দারের দাবি, “আমার ছেলের কাছে আধার কার্ড ছিল। ওর সঙ্গে শেষ কথা বলেছিলাম গত শুক্রবার রাত ৮টায়। তারপর থেকে ফোন বন্ধ। কাল রাতে একটি খবরের ভিডিওতে বহু ধৃতদের ভিড়ে আমি ছেলের মুখ চিনে ফেলি। ওকে বাংলাদেশি সন্দেহে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

দেবু সর্দার বলেন, “আমার ছেলে মুম্বইয়ে রুজির জন্য গিয়েছিল। ও বাংলা বলে বলে ওকে বাংলাদেশি সন্দেহ করা হয়েছে? এটা কী ভাবে মেনে নিই?”

এই অভিযোগ সামনে আসতেই তৎপর হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার রাতেই চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল মুম্বই পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ওই দলে রয়েছেন জেলা পরিষদের সদস্য-সহ অভিষেকের ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা।

তৃণমূল সূত্রে খবর, এই প্রতিনিধি দল শুধু বাবাই নয়, যারা বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে আটক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে উদ্ধার করবেন। প্রয়োজনে আইনগত সাহায্য এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের হেনস্তা বাড়ছে। “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি অপবাদ, এটা আমরা মেনে নেব না,” এমনও বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাবাই সর্দারের ঘটনা যেন সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবে রূপ দিল।

সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় দেবু সর্দারের চোখ আজ বারবার ফোনের স্ক্রিনে। “আমরা দোষী নয়, আমার ছেলে রুটি-রুজির জন্য গিয়েছে। বাংলা বললে কেউ কি বাংলাদেশি হয়ে যায়?”— কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

যে দেশে ভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছিল, সেই দেশেই যদি কেউ মাতৃভাষা বলার কারণে বিদেশি বলে হেনস্তার শিকার হয়, তবে প্রশ্ন উঠবেই—রাষ্ট্র কি নিজেই তার গঠনমূল উদ্দেশ্যকে অস্বীকার করছে না?

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks