কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে ‘কারচুপির’ অভিযোগে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। সেই ইস্যুতে আগামী ৮ আগস্ট দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করতে চলেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। তার আগে ৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার বিরোধী নেতাদের বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লি যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিরোধী ঐক্যকে আরও দৃঢ় করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে এই ঘেরাও কর্মসূচির পরিকল্পনা। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে রণকৌশল চূড়ান্ত হবে, আর শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হবে প্রতিবাদ কর্মসূচি। সেই বৈঠকের পর বিরোধী নেতাদের জন্য নৈশভোজেরও আয়োজন করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
রাজ্যসভায় ডেরেক ও’ব্রায়েনের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কমিশন ঘেরাও’ প্রস্তাব ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। বিহারে SIR প্রক্রিয়ায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় শাসক বিজেপি-কে এক হাত নিতে চাইছে বিরোধীরা। এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন— “বৈধ ভোটারদের নাম কাটা হলে প্রতিবাদ হবেই। দরকারে কমিশনের দফতর ঘেরাও করব।”
আগামী বছর বাংলাসহ তিনটি অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যে নির্বাচন। তার আগে SIR-এ ছাঁটাই প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় স্তরে বিতর্ক তৈরি করতে চাইছে তৃণমূল। তামিলনাড়ু ও কেরলের শাসক দলগুলিও একই ইস্যুতে সরব। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, দিল্লির বৈঠকে ত্রিধারা জোটবদ্ধ অবস্থান নেবে বিরোধী পক্ষ।
৮ আগস্ট অভিষেকের নেতৃত্বে চার হাজার তৃণমূল নেতার ভার্চুয়াল বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু কমিশন ঘেরাওয়ের সিদ্ধান্তের পর সেই বৈঠক এগিয়ে এনে আগামী ৫ আগস্টেই আয়োজন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক হবে কর্মীদের একত্রিত করার মোক্ষম পর্ব।
কেন্দ্রের ইঙ্গিত, SIR নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অতীতে কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা চাওয়ার আবেদনও স্পিকার নাকচ করেছিলেন। তবে বিরোধীরা বলছে, ২১ আগস্ট পর্যন্ত অধিবেশন চললেও এসআইআর ইস্যুতে প্রতিবাদ চলবে। সংসদের ভিতরে না হোক, বাইরে জোরদার চাপ তৈরি করা হবে।
৭ আগস্টের বৈঠকে শুধুমাত্র কমিশন ঘেরাও নয়, ৯ আগস্টের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও বিরোধী জোটের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা হতে পারে। সূত্রের দাবি, আগের লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ৭০-১০০টি আসনে কারচুপির প্রমাণ হাতে রয়েছে রাহুল গান্ধীর— সেগুলি বৈঠকে উপস্থাপিত হতে পারে।
এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং তাতে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব এখন জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় ভূমিকা রাজনীতির উত্তাপ বাড়াতে চলেছে— বিশেষ করে ২০২৬ সালের দিকে তাকিয়ে থাকা বাংলার ভোট যুদ্ধের প্রেক্ষিতে।




