কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সংযুক্তিকরণে ‘চিকেনস নেক’ করিডরে রেল প্রকল্পের বড় পদক্ষেপ
আলুয়াবাড়ি রোড থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত তৃতীয় ও চতুর্থ রেলপথ নির্মাণে রেলমন্ত্রকের ছাড়পত্র
জাতীয় নিরাপত্তা ও পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় রেল। শিলিগুড়ির ‘চিকেনস নেক’ করিডর হয়ে আলুয়াবাড়ি রোড থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন তৈরির প্রকল্পে ছাড়পত্র দিল রেলমন্ত্রক। ১,৭৮৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৭ কিমি দীর্ঘ অংশে ট্র্যাক সংখ্যা বাড়িয়ে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামো আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন পূর্ব-উত্তর সীমান্ত রেলের আধিকারিকরা।
চিকেনস নেক—a ২২ কিমি চওড়া সংকীর্ণ করিডর উত্তরবঙ্গে যা মূল ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগ রক্ষা করে—নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা হওয়ায় এই অঞ্চল অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ। ভূরাজনৈতিক স্পর্শকাতরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষায় এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা ও রেল বিশেষজ্ঞরা।
পূর্ব-উত্তর সীমান্ত রেলের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, “চিকেনস নেক করিডর দিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন নির্মাণ কেবল রেল চলাচলের গতি ও সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং প্রয়োজনে সেনাবাহিনী বা আধাসামরিক বাহিনী দ্রুত মোতায়েনেও সাহায্য করবে।”
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “এই প্রকল্প শুধুমাত্র পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল দেশের দ্রুত সংযোগ রক্ষা এবং পণ্য পরিবহণের গতি বাড়িয়ে আঞ্চলিক উন্নয়নের দিকেও বড় ধাপ।”
প্রকল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক :
-
৭টি নতুন রেলস্টেশন
-
৯৯টি সেতু
-
৩টি রোড ওভারব্রিজ
-
৮টি রোড আন্ডারপাস
-
বিহারের কিশনগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি এবং উত্তর দিনাজপুর জেলায় বিস্তৃত এই প্রকল্প
এই প্রকল্পের ফলে প্রতিবছর আনুমানিক ২.১৪ কোটি লিটার ডিজেল সাশ্রয় হবে, যা পরিবেশগত ও আর্থিক—উভয় দিক থেকেই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। সেই সঙ্গে, আরও দ্রুত পণ্য পরিবহণ সম্ভব হবে, যা কৃষি ও গ্রামীণ পণ্য বাজারজাতকরণে সহায়তা করবে এবং কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
পূর্ব-উত্তর সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিন্জল কিশোর শর্মা বলেন, “এটা শুধুমাত্র রেললাইন নির্মাণের প্রকল্প নয়। এটা হচ্ছে আঞ্চলিক সংযুক্তিকরণ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিশা।”
প্রকল্পের নির্মাণ কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। সম্পূর্ণ হলে, এটি ‘চিকেনস নেক’ করিডরকে নিরাপত্তা ও বিকাশের শক্ত ভিতে দাঁড় করাবে—যা ভারতের প্রতিরক্ষা ও আর্থিক পরিকাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




