কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
ভারতের চিকিৎসা জগতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হল বৃহস্পতিবার রাতে। বেঙ্গালুরুর দুটি হাসপাতালের মধ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য মেট্রোর সাহায্যে পৌঁছে দেওয়া হল একটি মানবদেহের লিভার। সময়ের সঙ্গে রেসে জিতে এই উদ্যোগ সফলভাবে প্রাণ রক্ষা করল ২৪ বছর বয়সি এক যুবকের।
সাধারণত, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য যে ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করা হয়, তা মূলত সড়কপথের জন্য। তবে এ বার সেই প্রথাগত পথ থেকে সরে এসে বিকল্প পথ হিসেবে বেছে নেওয়া হল মেট্রো রেল পরিষেবা। ভারতে এই ঘটনা দ্বিতীয়বার ঘটল। এর আগে হায়দরাবাদ মেট্রো এমন ইতিহাসে নাম লিখিয়েছিল।
সময় বাঁচাতে মেট্রো, সুরক্ষায় ছিল কড়া নজর
বেঙ্গালুরু মেট্রো রেল কর্পোরেশন (BMRCL) জানিয়েছে, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সময়ই মুখ্য ফ্যাক্টর। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৩৮ মিনিটে হোয়াইটফিল্ডের বৈদেহী হাসপাতাল থেকে লিভার নিয়ে যাত্রা শুরু করেন একদল চিকিৎসক ও নার্স। সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়কপথ পেরিয়ে তাঁরা পৌঁছন হোয়াইটফিল্ড মেট্রো স্টেশনে।
বিশেষভাবে পরিচ্ছন্ন করা মেট্রোর শেষ কামরাটি অঙ্গ পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। সেই কামরায় ছিলেন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল কর্মীরা। BMRCL-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সিকিউরিটি অফিসার স্বয়ং সবরকম কাগজপত্র ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করেন।
রাত ৮টা ৪২ মিনিটে হোয়াইটফিল্ড স্টেশন থেকে রওনা দিয়ে মেট্রো পৌঁছয় রাত ৯টা ৪৮ মিনিটে রাজারাজেশ্বরী নগরে। সেখান থেকে ফের ২.৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ‘গ্রিন করিডর’-এর মাধ্যমেই পৌঁছয় দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর স্পর্শ হাসপাতালে। রাতেই সম্পন্ন হয় অস্ত্রোপচার। প্রতিস্থাপিত লিভারটিই এখন ২৪ বছর বয়সি যুবকের জীবনের একমাত্র ভরসা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে শহরাঞ্চলের যানজটের ভিড়ে সময় বাঁচাতে মেট্রো পরিবহণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের নতুন পথ হয়ে উঠতে পারে। দ্রুত ও নিরাপদে অঙ্গ পৌঁছে দেওয়ার এমন নজির আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি, হায়দরাবাদ মেট্রোতে প্রথমবার হৃদযন্ত্র পরিবহণ করা হয় এক ব্রেন-ডেড যুবকের দেহ থেকে। এলবি নগরের হাসপাতাল থেকে লকডিকাপুলের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয় হার্টটি। সেই নজিরের পুনরাবৃত্তি ঘটল এবার বেঙ্গালুরুতে।




