কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
মহার্ঘভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) রাজ্য সরকারি কর্মীদের মৌলিক অধিকার নয়— এই সওয়ালেই সুপ্রিম কোর্টে জোর সওয়াল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কেন্দ্রের নির্ধারিত হারে ডিএ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলেও আদালতকে জানানো হয়।
মঙ্গলবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি চলাকালীনই ওঠে বড় প্রশ্ন— ডিএ কি মৌলিক অধিকার? নাকি আইনগত অধিকার?
রাজ্যের তরফে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল স্পষ্ট জানান, “ডিএ কোনও মৌলিক অধিকার নয়। দেশে ১৩টি রাজ্য রয়েছে, যারা নিজেদের মতো করে ডিএ দেয়। কেউ তাদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে বাধ্য করতে পারে না।”
তাঁর সঙ্গেই সওয়াল করেন রাজ্যের অন্য আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান, যিনি মধ্যপ্রদেশ সরকারের একটি প্রাসঙ্গিক মামলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, “২০০৮ সালের এক রায়ে বলা হয়েছিল, ‘ডিএ হল কৃতজ্ঞতা বা গ্রেস।’” অর্থাৎ এটি বাধ্যতামূলক কোনও অধিকার নয়।
অন্যদিকে, মামলাকারীদের আইনজীবী গোপাল সুব্রহ্মণ্যম কিছুটা সহমত জানিয়ে বলেন, “ডিএ আইনগত অধিকার হতে পারে, কিন্তু মৌলিক অধিকার নয়।” যদিও তিনি আরও জানান, বহু রাজ্য কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেয় এবং এর ভিত্তি হল কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI)।
এখানেই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কারোল — “এই ডিএ-কে কি আমরা মৌলিক অধিকার বলে গণ্য করতে পারি?”
রাজ্যের আইনজীবী দিওয়ান ব্যাখ্যা করেন, “ROPA 2009-এর রুল ৩(১)(সি) অনুযায়ী রাজ্য সরকার মহার্ঘভাতা প্রদান করে থাকে। কেন্দ্রীয় নিয়ম অনুসরণ করা কোনও বাধ্যতামূলক নির্দেশ নয়। রাজ্য নিজস্ব কাঠামো অনুযায়ী সময়মতো ডিএ প্রদান করেছে।”
তিনি বলেন, “এটা না তো মৌলিক অধিকার, না আইনগত অধিকার। তবুও রাজ্য সরকার নিয়মিত ডিএ দিয়ে এসেছে এবং তা বাড়িয়েছে। তাই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন যে, রাজ্য ডিএ দেয়নি।”
সিবাল সাফ বলেন, “স্টেট পাবলিক সার্ভিস সম্পূর্ণরূপে রাজ্যের এক্তিয়ারে পড়ে। কেন্দ্র এখানে নির্দেশ দিতে পারে না। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।”
তিনি আরও বলেন, “রাজ্যের রুলবুকে কোথাও বলা নেই যে, কর্মীদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে হবে। রাজ্য বাজেট ও আর্থিক সামর্থ্যের উপর ভিত্তি করে ডিএ নির্ধারণ করে।”
বর্তমানে এই মামলার শুনানি চলছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে ডিএ কোনও মৌলিক অধিকার নয় — এই বিষয়ে দুই পক্ষই একমত। এখন মূল প্রশ্ন, রাজ্য কর্মচারীরা কি ‘আইনি অধিকার’-এর দোহাই দিয়ে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দাবি করতে পারেন?
এই মামলার রায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ সংক্রান্ত ভবিষ্যত দাবির ক্ষেত্রে দিশা নির্ধারণ করবে, তা বলাই যায়।




