কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
ফের রাজ্য সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বঙ্গ–বিজেপি সূত্রের খবর, সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চললে আগামী ২০ আগস্ট বাংলায় আসবেন তিনি। সফরে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি দমদমে একটি বড়সড় জনসভা করারও কথা রয়েছে তাঁর।
এটাই শুধু নয়, এই সফরের অন্যতম মূল আকর্ষণ হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত নোয়াপাড়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো রুট (ইয়েলো লাইন)–এর উদ্বোধন। সূত্রের খবর, রুটটির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে এবং ট্রায়াল রানও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই এই রুটের শুভ সূচনা হলে, এটি হবে শহরবাসীর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সপোর্ট সুবিধা।
বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ততটাই রাজ্যে দলীয় সংগঠন চাঙ্গা করতে সচেষ্ট হচ্ছে। বঙ্গ–বিজেপির একাংশের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদী এখন থেকে প্রতি মাসেই অন্তত একবার করে বাংলায় আসার পরিকল্পনা করছেন। প্রতিটি সফরে একাধিক সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক সভাও রাখার পরিকল্পনা চলছে।
দলীয় সূত্রের মতে, মোদীর আসন্ন দমদম সফর হবে সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ। ইতিমধ্যেই এলাকাভিত্তিক জনসংযোগ অভিযান, মোদীর ভাবনা প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়া কৌশল এবং বুথ স্তরের সংগঠনকে মজবুত করতে নতুন রূপরেখা তৈরি হয়েছে।
তবে তৃণমূল কংগ্রেস মনে করছে, মোদীর একাধিক সফর বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে কোনও বড়সড় প্রভাব ফেলবে না। দলের এক মুখপাত্র বলেন,
“২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেই বাংলায় বিজেপির আসন কমেছে। ২০২৬–এ ক্ষমতায় আসা তো দূরের কথা, বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাওয়ার মতো বিধায়কও পাবে না বিজেপি।”
এই প্রেক্ষিতে, সোমবার দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ, সুনীল বনসল, অমিত মালব্য, এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী।
বৈঠকে মূলত রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে সংগঠন ও প্রচারের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও বৈঠক শেষে কেউই সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেননি। রাজ্য বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, আসন্ন দিনগুলিতে ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমেই বৈঠকের রূপরেখা স্পষ্ট হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুধু মেট্রো উদ্বোধন বা জনসভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় — রাজনৈতিক বার্তাও পরিষ্কার। বাংলায় নিজের উপস্থিতি বাড়িয়ে তৃণমূলের জয়ের গতিকে থামাতে চাইছেন মোদী। যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, “লোকসভায় ভরাডুবির পরে মোদীর বাংলায় ঘনঘন আসা, একপ্রকার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই।”




