spot_img
31 C
Kolkata
Sunday, April 19, 2026
spot_img

পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগে নতুন মোড়: আড়শার যুবকের ফের ময়নাতদন্তের নির্দেশ হাই কোর্টের !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা  : 


পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে মৃত্যুর ঘটনায় ফের একবার নড়ে উঠল প্রশাসন। পুরুলিয়ার আড়শা থানায় ডেকে পাঠানো এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। এবার সেই ময়নাতদন্ত হবে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ কল্যাণীর এইমস হাসপাতালে।

৩৪ বছরের যুবক বিষ্ণু কুমারের মৃত্যুকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল পুরুলিয়ার পুলিশ। বিষ্ণুর পরিবার অভিযোগ জানিয়েছিল, ১৬ জুলাই তাঁকে মোবাইল চুরির অভিযোগে থানায় ডেকে পাঠানো হয় এবং সেখানে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। সেদিন সন্ধেয় বিষ্ণু বাড়ি ফিরলেও, মাত্র তিন দিন পর ১৯ জুলাই তিনি মারা যান। পরিবারের দাবি, পুলিশের মারধরের ফলেই বিষ্ণুর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়।

পরদিনই বিষ্ণুর দেহ পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত করা হলেও, ফলাফলে সন্দেহ প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা দাবি করেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রকৃত কারণ আড়াল করা হয়েছে। ফলত, তাঁরা এখনও পর্যন্ত দেহ গ্রহণ করেননি।

পরিবারের তরফে বিষ্ণুর ভাই সমন কুমার বলেন, “দাদা থানায় যাওয়ার পর ফিরে এসে কিছু খায়নি। শুধু কোমরে হাত দিয়ে ব্যথার কথা বলছিল। এরপরই শরীর খারাপ হতে থাকে। ১৯ তারিখ ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।”

বিষ্ণুর পরিবারের আইনজীবী সাগ্নিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। হাই কোর্টে নতুন করে ময়নাতদন্ত ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই মামলার শুনানিতে নির্দেশ দেন, ফের ময়নাতদন্ত হবে এবং তা হবে কল্যাণীর এইমসে। নির্ধারিত তারিখ ৭ অগস্ট।

এই নির্দেশের পর বিড়ম্বনায় পড়েছে আড়শা থানার পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় আগে জানিয়েছিলেন, “ময়নাতদন্তের সঙ্গে সঙ্গে দেহের সুরতহাল ও ভিডিও রেকর্ডিংও হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, বিষ্ণুর মৃত্যু হয়েছে হৃদযন্ত্র, লিভার ও কিডনির বিকল হওয়ার ফলে। কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই।”

কিন্তু দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের নির্দেশ সেই ব্যাখ্যাকে কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যদি শারীরিক নির্যাতন না-ই হয়ে থাকে, তাহলে বিষ্ণু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কেন মারা গেলেন?

বিষ্ণুর স্ত্রী নমিতা কুমার বলেন, “একটা সুস্থ মানুষ থানায় গিয়ে এভাবে মারা যেতে পারেন না। আমরা পুলিশের উপর বিশ্বাস হারালেও, আদালতের উপর ভরসা রয়েছে। সুবিচারের আশায় আছি।”

এই মামলার ফলে ফের একবার প্রশ্ন উঠে গেল পুলিশি হেফাজতে নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে। পাশাপাশি, কোনও মৃত্যুকে ঘিরে স্বচ্ছ তদন্ত কতটা জরুরি, সেটাও সামনে চলে এল। এখন দেখার, দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত কী নতুন তথ্য সামনে আনে এবং সেই অনুযায়ী প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।

 

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks