কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
আগামী ৯ অগস্ট নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ডাকা নবান্ন অভিযান ঘিরে রাজ্য সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। অভিযানের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হলেও, আদালত আন্দোলনের পথে কোনও বাধা দেয়নি। তবে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে— মিছিল, সভা বা যেকোনও ধরনের প্রতিবাদ পুলিশের জারি করা নির্দেশিকা ও বিধি মেনেই করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, “প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের মৌলিক অংশ। আদালত তা বন্ধ করতে পারে না। তবে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত পদ্ধতিতেই আন্দোলন হতে হবে।” আদালতের মতে, পুলিশ বিকল্প প্রতিবাদস্থল নির্ধারণ করে দিতে পারে এবং অংশগ্রহণকারীদের সে বিষয়ে অবহিত করা হবে।
রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়, অতীতে নবান্ন অভিযানের জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছিল। প্রচুর লোক সমাগমে হাওড়ার ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছিল, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। রাজ্যের আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, গত বছরের অভিযানে ৪৭ জন পুলিশ আহত হন, একজন আধিকারিকের চোখ নষ্ট হয়, ১২৪ জন গ্রেপ্তার হন। এমনকি জলকামান ব্যবহার করেও ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা আটকানো যায়নি।
রাজ্যের প্রস্তাব, চাইলে মন্দিরতলা, হাওড়া ময়দান বা বঙ্কিম সেতুর কাছে শান্তিপূর্ণ জমায়েত করা যেতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত না হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত স্পষ্ট করেছে—
-
পুলিশ, সরকারি কর্মী বা সরকারি সম্পত্তির কোনও ক্ষতি করা যাবে না।
-
মিছিল বা প্রতিবাদ আইন মেনে শান্তিপূর্ণ হতে হবে।
-
বিকল্প স্থান ব্যবহারে পুলিশ নির্দেশ দিলে তা মানতে হবে।
গত বছরের নবান্ন অভিযানে মূলত বিজেপি কর্মীদেরই দেখা গিয়েছিল, পতাকা ছাড়া হলেও রাজনৈতিক উপস্থিতি স্পষ্ট ছিল। নাগরিক সমাজ ও আন্দোলনরত চিকিৎসকরা তেমন সক্রিয় ছিলেন না। এ বছরেও বিজেপি-র বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পতাকা ছাড়া বিজেপি কর্মীরা অভিযানে অংশ নেবেন। তবে আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা এই কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন, ফলে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
নির্যাতিতার বাবা-মা অবশ্য দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়ে দিয়েছেন— নবান্ন অভিযান হবে, তবে এবার আদালতের নির্দেশ মতো পুলিশের গাইডলাইন মেনে।




