কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার ডাক এবং ভোট চুরির অভিযোগে শুক্রবার সংসদ চত্বরে উত্তাল হয়ে উঠল বিরোধী শিবির। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সাংসদরা, কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটভুক্ত অন্যান্য দল মিলে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভে তৃণমূলের মুখ্য স্লোগান ছিল— “বাংলার অপমান মানছি না, মানব না”। হাতে হাতে ছিল পোস্টার— “ভোট চুরি”, “নির্বাচন কমিশন হায় হায়”, এবং “নির্বাচন কমিশন লজ্জা”।
এ দিন বিরোধী সাংসদদের অভিযোগ— নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপি একাধিক রাজ্যে ভোট চুরি করেছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় বিহারের ঘটনা, যেখানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই SIR প্রক্রিয়াকে ব্যঙ্গ করে বলেন— “এটি আসলে সাইলেন্স ইনভিজিবল রিগিং”। তাঁর এই মন্তব্যই পোস্টারে ছাপিয়ে উঠেছিল বিক্ষোভস্থলে।
সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে উল্লেখ করায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে সমগ্র বাংলা জুড়ে। সেই বিতর্কে ঘি ঢালেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তাঁর বক্তব্য— “বাংলা বলে কোনও ভাষা নেই, বাঙালি বলতে জাতিসত্ত্বা বোঝায়”— বিরোধী মহলে ক্ষোভের ঝড় তোলে।
তৃণমূলের দাবি, বাংলা ভাষাকে অপমান করা মানে জাতীয় সঙ্গীতকে অপমান করা, আর জাতীয় সঙ্গীতের অপমান রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমান অপরাধ।
বিক্ষোভের আগের রাতেই ইন্ডিয়া জোটের নেতারা একত্রে নৈশভোজে মিলিত হন রাহুল গান্ধীর বাসভবনে। সেখানেও মহারাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীর মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয় বলে সূত্রের দাবি, যেখানে বাংলা ভাষা ইস্যু এবং বাঙালিদের উপর আক্রমণ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জুন মালিয়া একসঙ্গে স্লোগান দেন—
-
“বাংলার অপমান মানছি না, মানব না”
-
“নির্বাচন কমিশন হায় হায়”
-
“নির্বাচন কমিশন লজ্জা”
অভিষেকও তাঁদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বারবার শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।
মূল অভিযোগগুলির সারমর্ম
| ইস্যু | অভিযোগ | মূল দাবি |
|---|---|---|
| ভোট চুরি (SIR) | বিহারে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ, বিজেপি-নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশ | SIR আসলে “সাইলেন্স ইনভিজিবল রিগিং” |
| বাংলা ভাষা অপমান | দিল্লি পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ উল্লেখ; অমিত মালব্যর মন্তব্য | বাংলা ভাষার অপমান মানে জাতীয় সঙ্গীতের অপমান |
| বাঙালিদের উপর আক্রমণ | বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ভাষাগত কারণে আক্রমণ | বাঙালিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের ভূমিকা জরুরি |




