কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : নয়াদিল্লি:
ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্ক ফের শুল্কের গেরোয়। ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— শুল্ক সমস্যার সমাধান না-হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনও বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা এগোবে না।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কাঁধ ঝাঁকিয়ে খানিক বেপরোয়া ভঙ্গিতে বলেন, “না, যতক্ষণ না শুল্ক সমস্যার সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রশ্নই নেই।”
বুধবারই ট্রাম্প স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশিকায়। এর আগে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছিল। ফলে আগামী ২৭ অগস্ট থেকে আমেরিকায় পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারতকে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকার কাছে সর্বোচ্চ শুল্ক প্রদানকারী দেশের তালিকায় উঠে এল ভারতের নাম। একই সঙ্গে ব্রাজিলের উপরেও সমপরিমাণ শুল্ক বসানো হয়েছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ— ভারত সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ার সঙ্গে তেলের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থসাহায্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে নয়াদিল্লি আগেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে— বাণিজ্যনীতি নির্ধারণ হয় জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী। রাশিয়া কম দামে তেল বিক্রি করায় ভারত তা কিনছে। আমেরিকার শর্তে বাজারনীতি বদলানোর কোনও প্রশ্ন নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্র।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার দিল্লির এক অনুষ্ঠানে কৃষক, পশুপালক ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থ রক্ষার কথা ফের জোর দিয়ে বলেন, “এর জন্য ব্যক্তিগতভাবে চড়া মূল্য দিতে হলেও আমি প্রস্তুত।”
এখনও পর্যন্ত ভারত-আমেরিকার মধ্যে পাঁচ দফা বৈঠক হয়েছে। চলতি মাসে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের ভারতে আসার কথা। কিন্তু মার্কিন দাবি— ভারত যেন কৃষিপণ্য, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার আমেরিকার জন্য খুলে দেয়। তাতে রাজি নয় ভারত। নয়াদিল্লির মতে, তাড়াহুড়োয় একপাক্ষিক চুক্তি করলে লাভ হবে কেবল আমেরিকারই।
ফলে প্রশ্ন উঠছে— শুল্ক-বিতর্ক মিটে গেলে তবেই কি পুনরায় বাণিজ্যচুক্তি আলোচনার পথে হাঁটবে দুই দেশ? আপাতত ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, সমঝোতার পথ সহজ হবে না।




