কলকাতা টাইমস নিউজ :
দেবজিৎ গাঙ্গুলী :
“মাঝারি ও হালকা মালবাহী গাড়ি চলাচলে আংশিক নিষেধাজ্ঞা, রাত ও দিনের জন্য আলাদা ট্রাফিক পরিকল্পনা “
যানজটের দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে রেহাই দিতে অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা ও হাওড়া সিটি পুলিশ। আগামী ১০ অগস্ট থেকে সাঁতরাগাছি ব্রিজ হয়ে বড় মালবাহী যান চলাচলের রুট বদলানো হবে। একই সঙ্গে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ থাকবে হালকা ও মাঝারি মালবাহী গাড়িরও চলাচল।
শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত ঘোষণা করেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী।
সাঁতরাগাছি ব্রিজ মূলত দক্ষিণ-পূর্ব রেল লাইনের উপর দিয়ে যাওয়া একটি তুলনামূলক সরু সেতু, যার প্রস্থ কোনা এক্সপ্রেসওয়ে-এর তুলনায় অনেক কম। ফলে সেতুতে প্রায় সারাবছরই জট লেগে থাকে।
এদিকে, কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপর ছয় লেনের এলিভেটেড করিডর তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। এই নির্মাণকাজের জন্য একাধিক স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশেষত ভারী মালবাহী যানবাহন এই যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী জানান, দিল্লি রোড ও দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপর দিয়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতু হয়ে কলকাতায় ঢোকা বড় মালবাহী ট্রাক ও ট্রেলারগুলিকে নতুন রুটে পাঠানো হবে।
এখন থেকে এই গাড়িগুলি মাইতিপাড়া হয়ে নিবেদিতা সেতু দিয়ে শহরে ঢুকবে। এই রুট বদল কার্যকর হবে প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত।
দিনের বেলায়ও আসছে বড় পরিবর্তন। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাঁতরাগাছি ব্রিজে হালকা ও মাঝারি মালবাহী গাড়ির প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
এই নিষেধাজ্ঞা বিশেষভাবে প্রযোজ্য হবে বন্দরমুখী ও বন্দর থেকে আসা গাড়িগুলির ক্ষেত্রে। তবে যাত্রীবাহী সাধারণ যানবাহনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
এই নিয়ম কতদিন চলবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রবীণ ত্রিপাঠী জানান, ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি-র সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে রুট বদলের সময়সূচি ও নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানো বা কমানো হতে পারে।
পুলিশের আশা, এই নতুন রুট পরিকল্পনা কার্যকর হলে সাঁতরাগাছি ব্রিজ ও আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলিতে যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
শিল্প এলাকা, বন্দর এবং শহরের মধ্যে পণ্য পরিবহনের গতি কিছুটা ধীর হলেও, যাত্রীবাহী পরিবহনে স্বস্তি মিলবে।




