কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : নয়াদিল্লি:
প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে নাটকীয় পরিবর্তন। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমারের বিরুদ্ধে জারি করা কড়া নির্দেশ শুক্রবার প্রত্যাহার করল সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ ৪ অগস্টে যে নির্দেশ দিয়েছিল, সেটি এদিন তুলে নেওয়া হয়।
আগস্টের ওই নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল —
-
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার চাকরির মেয়াদকালে কোনও ফৌজদারি মামলার বিচার করবেন না।
-
সিঙ্গল বেঞ্চে না বসে শুধুমাত্র ডিভিশন বেঞ্চে সিনিয়র বিচারপতির সঙ্গে বসবেন।
এই পদক্ষেপের কারণ ছিল একটি মামলার রায় নিয়ে আপত্তি। বিচারপতি কুমার একটি ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ করতে অস্বীকার করেছিলেন। মামলাটি ছিল মূলত আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল — দেওয়ানি পথে টাকা পুনরুদ্ধার কঠিন, তাই ফৌজদারি মামলা চলতে পারে।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তিকে ‘বিকৃত ও আইনসম্মত নয়’ বলে সমালোচনা করে, এবং তাঁকে ফৌজদারি মামলার বিচার থেকে সরিয়ে দেয়।
এই সিদ্ধান্তের পরেই সমালোচনার ঝড় ওঠে আইনজগত ও বিচার মহলে। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় (এখানে প্রতিবেদনে নাম দেওয়া হয়েছে বিআর গাভাই, আসলে তখনকার CJI ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়; প্রেক্ষাপটে CJI-এর হস্তক্ষেপ বোঝানো) ডিভিশন বেঞ্চকে চিঠি লিখে বলেন — বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক।
এমনকি, এলাহাবাদ হাইকোর্টের ১৩ জন বিচারপতি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেন, যেন ওই নির্দেশ কার্যকর না হয়।
শুক্রবার বেঞ্চ জানায় — তারা প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে চিঠি পেয়েছে, এবং সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ অগস্টের নির্দেশ প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
বিচারপতি পারদিওয়ালা বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য কোনও বিচারপতিকে বিড়ম্বনায় ফেলা ছিল না। আমরা শুধু বিচারব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে চেয়েছিলাম।”
বেঞ্চ আরও জানায় — দেশের প্রায় ৯০% মামলাকারীর কাছে হাইকোর্টের রায়ই চূড়ান্ত, বাকি মাত্র ১০% সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগ পান। তাই হাইকোর্টের প্রতিটি রায়ই হওয়া উচিত সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও যুক্তিযুক্ত।




