কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : আলিপুরদুয়ার
আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মর্গে দিনের পর দিন জমে থাকছে বেওয়ারিশ মৃতদেহ। শুক্রবার পর্যন্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮। কিন্তু বৈদ্যুতিক চুল্লি বিকল হয়ে থাকায় সৎকার আটকে আছে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময়।
১৩ জুলাইয়ের ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছের ডাল চুল্লির চিমনিতে আঘাত করে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরদিন, ১৪ জুলাই, আলিপুরদুয়ার পুরসভা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেয়— চুল্লি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত বৈদ্যুতিকভাবে মৃতদেহ দাহের কাজ বন্ধ থাকবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, বেওয়ারিশ মৃতদেহ তিন মাসের বেশি মর্গে রাখা যায় না। এপ্রিল মাসেই কয়েকটি লাশ পোড়ানোর ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল পুরসভার কাছ থেকে। কিন্তু চুল্লি অকেজো হয়ে যাওয়ায় তা কার্যকর হয়নি। ফলে, ৮-১০টি মৃতদেহ এখন তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত— এবং দুর্গন্ধ ইতিমধ্যেই হাসপাতাল চত্বর ছাড়িয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কোচবিহার পুরসভার বৈদ্যুতিক চুল্লিতে লাশ পোড়ানোর পরিকল্পনা করছে। জেলা হাসপাতালের সুপার পরিতোষ মণ্ডল বলেন—
“আলিপুরদুয়ার পুরসভার চুল্লি বিকল থাকায় আমরা সমস্যায় পড়েছি। বিকল্প হিসাবে কোচবিহারের চুল্লি ব্যবহারের জন্য জেলাশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। না হলে কাঠের চুল্লিতে দাহ করতে হবে।”
পুর চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর অবশ্য জানান,
“দাহের কাজ পুরোপুরি বন্ধ নেই। বৈদ্যুতিক চুল্লির পাশেই কাঠের চুল্লি রয়েছে। তবুও আমরা বৈদ্যুতিক চুল্লি মেরামতের কাজ চালাচ্ছি।”
২০১৭ সালে নির্মিত বৈদ্যুতিক চুল্লিটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কলকাতা থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু মেরামতে কমপক্ষে ২৫ লক্ষ টাকা খরচের হিসেব উঠে আসায় কাজ থমকে যায়। পুর আইন অনুযায়ী, এই অঙ্কের বেশি খরচ করতে হলে টেন্ডার ডাকতে হবে, আর সেই প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।
মর্গে এভাবে লাশ জমে থাকা শুধু হাসপাতালের জন্য নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকরা।




