কলকাতা টাইমস নিউজ : দেবজিৎ গাঙ্গুলী :
পার্কস্ট্রিটে প্রথমে, রেসকোর্সের কাছে দ্বিতীয়বার আটকাল পুলিশ; বিজেপি নেতৃত্বে তীব্র ক্ষোভ
আরজি করের নির্যাতিতার মা ও বাবা শনিবার নিজেদের ডাকা নবান্ন অভিযানের মিছিলে পা মেলাতেই পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। ধর্মতলা থেকে মিছিল শুরু হয়ে পার্কস্ট্রিটে পৌঁছনোর পর পুলিশি ব্যারিকেড ও ধস্তাধস্তির মাঝে চোট পান নির্যাতিতার মা। তাঁর অভিযোগ — মহিলা পুলিশকর্মীরা নির্বিচারে লাঠি চালিয়েছে, যার আঘাতে কপালে ফুলে গেছে এবং ভেঙে গেছে হাতের শাঁখা।
শনিবার দুপুরে ধর্মতলা চত্বর থেকে নবান্নের উদ্দেশে মিছিল শুরু হয়। নেতৃত্বে ছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা, সঙ্গে বিজেপি নেতা-কর্মী। মিছিল বেলা ১২টার কিছু আগে পার্কস্ট্রিট মোড়ে পৌঁছনোর পরই পুলিশ তা আটকে দেয়।
এরপর ধস্তাধস্তি শুরু হলে নির্যাতিতার মা আঘাত পান বলে অভিযোগ ওঠে। কপালে স্পষ্ট চোটের দাগ এবং হাতে ভাঙা শাঁখা তাঁর দাবিকে আরও প্রকট করে তোলে।
প্রথম ব্যারিকেড পেরিয়ে নির্ধারিত পথ ধরে রেসকোর্সের পাশ দিয়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর র্যাম্পের দিকে এগোতে থাকেন নির্যাতিতার মা-বাবা ও প্রায় তিরিশজন সমর্থক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ কৌস্তুভ বাগচী ও প্রীতম দত্তও।
কিন্তু রেসকোর্সের কাছে ফের পথরোধ করে পুলিশ। একের পর এক ব্যারিকেড — প্রথমে লোহার গ্রিল, তারপর শালবল্লার কাঠামো, শেষে বাঁশের ব্যারিকেড।
ধর্মতলায় পৌঁছেই পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর দাবি,
“আমরা যে গাড়ি করে এসেছিলাম, সেই গাড়ির নম্বর পুলিশ সব জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছে। বারবার আটকানো হয়েছে। হাই কোর্ট শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমতি দিয়েছে, তবুও পুলিশ নানা জায়গায় ব্যারিকেড বসিয়েছে।”
প্রায় পৌনে ১২টায় ধর্মতলায় মিছিলে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন —
“আমরা কোনও সংঘাতে জড়াব না।”
পুলিশি ব্যারিকেড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর প্রশ্ন — “এত ব্যারিকেডের কী প্রয়োজন?” পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনায় তিনি বলেন,
“মুখ্যমন্ত্রী সকলের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে উঠতে পারেননি।”
আরজি কর কাণ্ডে সিবিআই তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রসঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্য,
“হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত করছে। যদি কারও আপত্তি থাকে, আদালতে জানান।”
এই ঘটনা কেবল আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং রাজনৈতিক অস্থিরতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও নির্যাতিতার মা-বাবার ডাকে বিজেপির সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, পুলিশের ব্যারিকেড ও লাঠিচালনার অভিযোগ সরকার-বিরোধী ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।




