কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : ওয়াশিংটন
দুই মাসে দ্বিতীয়বার আমেরিকা সফরে গিয়ে ফের চরম বিতর্কে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ফ্লোরিডার টাম্পায় এক নৈশভোজে অংশ নিয়ে তিনি শুধু ভারতের উদ্দেশে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকিই দেননি, বরং এমন এক পরমাণু বার্তাও দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তুলেছে।
শিল্পপতি আদনান আসাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুনির বলেন :-
“আমরা একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। যদি মনে হয় পাকিস্তান ধ্বংসের মুখে, তবে আমরা অর্ধেক বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে ধ্বংস হব।”
পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃতীয় কোনও দেশকে আমেরিকার ভেতরে দাঁড়িয়ে এভাবে পরমাণু হুমকি দেওয়া নজিরবিহীন এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২২ এপ্রিলের জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে। সিন্ধু, বিতস্তা ও চন্দ্রভাগা — এই নদীগুলির প্রবাহ পাকিস্তানের কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তি স্থগিতের প্রসঙ্গে মুনির বলেন –
“ভারত বাঁধ তৈরি করুক, আমরা অপেক্ষা করব। একবার বাঁধ হয়ে গেলে ১০টি মিসাইল ছুঁড়ে তা ধ্বংস করে দেব। সিন্ধু নদ ভারতের পৈতৃক সম্পত্তি নয়।”
খনিজ তেল চুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের প্রসঙ্গ টেনে মুনির বলেন –
“ভারত ঝকঝকে মার্সেডিজ বা ফেরারির মতো হাইওয়েতে ছুটছে। কিন্তু পাকিস্তান নুড়ি বোঝাই ট্রাক। ট্রাক ধাক্কা দিলে ক্ষতি কার হবে?”
তাঁর এই মন্তব্যকে কূটনৈতিক মহল ‘অপমানজনক আক্রমণাত্মক বক্তব্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে পাকিস্তান আগে বহুবার হুমকি দিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না।” সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ না হলে চুক্তি স্থগিতই থাকবে। পাকিস্তানের কৃষি ৮০% নির্ভর করে এই নদীগুলির জলের উপর। ফলে ভারতের কড়া অবস্থান ইসলামাবাদের জন্য বড় চাপের কারণ।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াবে, মার্কিন মাটিতে পরমাণু হুমকি দেওয়ায় কূটনৈতিক চাপও বাড়তে পারে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য মূলত পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট আড়াল করার চেষ্টা।




