কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :
বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে রেডিয়েশন ডিটেকশন সিস্টেমের (Radiation Detection System) সতর্কবার্তায় তোলপাড়। রবিবার বন্দরটির সাধারণ কার্গো টার্মিনালের (GCB) ৯ নম্বর জেটিতে নোঙর করা হংকং পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এমভি মাউন্ট ক্যামেরন (MV Mount Cameron)-এর ছয়টি কনটেইনারে সন্দেহজনক রেডিওঅ্যাকটিভ পদার্থ ধরা পড়েছে। ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
বাংলাদেশের গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, এমভি মাউন্ট ক্যামেরন ১০ আগস্ট শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। জাহাজটি ব্রাজিল থেকে আনা লোহা-স্ক্র্যাপ বহন করছিল। ছয়টি কনটেইনার ৩ আগস্ট কাস্টমস ছাড়পত্র পেলেও রবিবার হঠাৎ রেডিয়েশন ডিটেকশন সিস্টেমে অ্যালার্ম বেজে ওঠে। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের শিপিং মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাখাওয়াত হোসেন, মাতারবাড়ি বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান জাকির হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (CPA) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BIDA) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
অ্যালার্ম বেজে উঠতেই CPA কর্তৃপক্ষ ছয়টি কনটেইনারকে আলাদা করে ফেলে এবং জাহাজটিকে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি উপকূলের বহিঃনোঙরে পাঠিয়ে দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে খবর দেওয়া হয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে (BAEC), যাতে তারা নমুনা পরীক্ষা করতে পারে।
পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে তিনটি রেডিওনিউক্লাইড আইসোটোপের সন্ধান মেলে—থোরিয়াম-২৩২ (Thorium-232), রেডিয়াম-২২৬ (Radium-226) ও ইরিডিয়াম-১৯২ (Iridium-192)। কাস্টমস হাউস চট্টগ্রাম নিশ্চিত করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভের আওতায় বসানো রেডিয়েশন ডিটেকশন সিস্টেমেই এই সনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে রেডিয়েশনের মাত্রা প্রতি ঘণ্টায় এক মাইক্রোসিভার্ট হিসেবে ধরা পড়েছে, যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে গোয়েন্দা সূত্রের আশঙ্কা—কনটেইনারের ইস্পাতের দেয়াল এবং ভেতরের স্ক্র্যাপ ধাতু প্রকৃত রেডিয়েশন স্তর আড়াল করে রাখতে পারে। ফলে আরও বিস্তারিত পরীক্ষার অপেক্ষা চলছে।
প্রায় ১৩৫ টন লোহা-স্ক্র্যাপ ঢাকার আল আকসা স্টিল মিলস লিমিটেডের জন্য আমদানি করা হয়েছিল। এই চালানটি LCL (Less than Container Load) পদ্ধতিতে ব্রাজিল থেকে ছাড়া হয়। CPA-এর ট্র্যাকিং অনুযায়ী, প্রায় এক মাসের সমুদ্রযাত্রায় জাহাজটি নেদারল্যান্ডস ও কলম্বোতে থেমেছিল। তবে আশ্চর্যের বিষয়—দুই বন্দরেই কোনও রেডিয়েশন সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি।
ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গোটা ঘটনাকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, জাহাজটির যাত্রাপথ ও সম্ভাব্য ক্রস-বর্ডার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতও এর প্রভাব থেকে বাদ যাবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি বন্দর ও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে প্রকৃত ঝুঁকি ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং কনটেইনারগুলো সম্পূর্ণ সিল করে বিশেষ সুরক্ষিত অঞ্চলে রাখা হয়েছে।




