spot_img
17 C
Kolkata
Tuesday, January 20, 2026
spot_img

দিল্লি-এনসিআর জুড়ে পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ: স্থায়ী আশ্রয়, নির্বীজকরণ ও কড়া নজরদারি বাধ্যতামূলক !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : ফাল্গুনী রায়চৌধুরী :

 

দিল্লি ও তার লাগোয়া ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন (এনসিআর) এলাকায় পথকুকুরের অবাধ চলাফেরা বন্ধে কড়া নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ সোমবার জানিয়ে দিল, রাস্তার কুকুরদের দ্রুত সরিয়ে স্থায়ী আশ্রয়ে রাখতে হবে এবং নির্বীজকরণ করতে হবে।

এই নির্দেশ এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দিল্লি-এনসিআরে কুকুরের কামড়ের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, পাশাপাশি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার খবরও চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। আদালতের ভাষায়, “পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর, তাই দ্রুত ও আপসহীন পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

আদালতের নির্দেশ অনুসারে :-

  • মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি (MCD), নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (NDMC) এবং দিল্লি সরকারকে (NCT of Delhi) দ্রুত এই পদক্ষেপ শুরু করতে হবে।

  • বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে কুকুর সরানোর কাজ হবে।

  • প্রশাসন চাইলে এই কাজের জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন করতে পারে।

  • আশ্রয়স্থলগুলোতে পশু বিশেষজ্ঞদের স্থায়ী মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে।

  • আশ্রয়ের ভেতরে ও বাইরে সিসিটিভি নজরদারি বসাতে হবে, যাতে কুকুর পালিয়ে রাস্তায় না যেতে পারে।

  • নাগরিকদের সহায়তার জন্য সকল সিভিক কর্তৃপক্ষকে হেল্পলাইন চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে—যদি কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা এই পদক্ষেপে বাধা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ, পশুপ্রেমী গোষ্ঠী কিংবা কোনও বেসরকারি সংস্থা যদি এই উদ্যোগের পথে দাঁড়ায়, আইনি পদক্ষেপ এড়ানো যাবে না।

উল্লেখ  গত কয়েক বছরে দিল্লি-এনসিআরে পথকুকুরের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।

  • হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিনই বহু মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

  • কিছু ক্ষেত্রে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

  • অভিযোগ, নির্বীজকরণ ও টিকাকরণ কর্মসূচি আগের মতো কার্যকর হয়নি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রাস্তার নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের উপর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।

যদিও এই সমগ্র বিষয়ের মূলত দুটি দিক আছে পজিটিভ ও অন্যটি এক চ্যালেঞ্জ ,

  • পজিটিভ দিক:

    • কামড় ও জলাতঙ্কের ঘটনা হ্রাস পাবে।

    • শহরের জননিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।

    • কুকুরদের জন্যও সুরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

  • চ্যালেঞ্জ:

    • পর্যাপ্ত আশ্রয়স্থল ও বিশেষজ্ঞের ব্যবস্থা করা।

    • এত সংখ্যক কুকুর নির্বীজকরণ ও পরিচর্যার জন্য বিশাল অর্থ ও জনবল প্রয়োজন।

    • পশুপ্রেমী সংগঠনগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা।

পশু অধিকারকর্মীদের একাংশের আশঙ্কা—যদি পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হয়, তবে আশ্রয়স্থলে অতিরিক্ত ভিড়, অসুস্থতা এবং পরিচর্যার অভাব দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—“এই পদক্ষেপ দেরিতে হলেও সঠিক সময়ে এসেছে। এখন দ্রুত বাস্তবায়নই মূল চাবিকাঠি।”

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ শুধু দিল্লি-এনসিআরের জন্য নয়, দেশের অন্যান্য শহরগুলির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে। শহরের সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও পশুকল্যাণ—এই তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই হবে প্রশাসনের আসল পরীক্ষা।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks