কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা
চিৎপুর সেতুর অবকাঠামোগত মেরামতির জন্য প্রশাসন সোমবার বড় পদক্ষেপ নিল। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর নিচে বসবাস করা দশটি পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে শহরেরই এক ফাঁকা জমিতে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এটি সেতু সংস্কারের প্রথম ধাপ।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মাঝেরহাট সেতু দুর্ঘটনার পর শহরের সমস্ত সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে উঠে আসে, কয়েকটি সেতুর অবস্থা উদ্বেগজনক। তার মধ্যে অন্যতম টালা সেতু—যেটি ভেঙে নতুন করে তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় আড়াই বছর। ওই সময় উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ বজায় রেখেছিল চিৎপুর সেতু। ফলে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ পড়ে এই সেতুর ওপরও।
চিৎপুর সেতু ১৯৩৪ সালে নির্মিত। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এত পুরনো সেতুর গার্ডার বদলানো এবং পিলারের মেরামতি এখন অত্যন্ত জরুরি। কয়েকদিন আগে কলকাতা পুরসভার দফতরে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতিতে সেতুর বর্তমান অবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাশীপুর–বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক ও ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, কেএমডিএ-র আধিকারিক এবং পুরসভার প্রকৌশল বিভাগ। লালবাজার ট্র্যাফিক বিভাগের অফিসাররাও বৈঠকে অংশ নেন।
টালা সেতু ইতিমধ্যেই চালু হওয়ায় চিৎপুর সেতু বন্ধ থাকলেও যান চলাচলে তেমন প্রভাব পড়বে না বলে বৈঠকে পুলিশ জানায়। এর ফলে মেরামতি কাজ দ্রুত শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়।
এলাকার কাউন্সিলর বাপি ঘোষ বলেন, “চিৎপুর সেতুর সংস্কার অনেকদিন ধরেই প্রয়োজন ছিল। পুরসভার পক্ষ থেকে সেতুর নিচে থাকা পরিবারগুলোকে আগেই জানানো হয়েছিল যে তাদের সরানো হবে। আজ সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করেছেন। এখন আশা করছি খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।”
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সেতুর সংস্কার বিলম্বিত হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলেই ধারণা।




