spot_img
25 C
Kolkata
Sunday, December 7, 2025
spot_img

নবান্নের কৌশলী পদক্ষেপ: চার নির্বাচনী আধিকারিকের মধ্যে দুই জনের সাসপেনশন প্রত্যাহার !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা  : 

নবান্নের কৌশলী পদক্ষেপ: চার নির্বাচনী আধিকারিকের মধ্যে দুই জনের সাসপেনশন প্রত্যাহার !
ইসি’র নির্দেশে আংশিক সাড়া, বিতর্কের কেন্দ্রে রাজ্য প্রশাসন

ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ECI) চার জন নির্বাচনী আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিলেও, রাজ্য সরকার পূর্ণভাবে সেই নির্দেশ কার্যকর না করে আংশিক পদক্ষেপের পথ বেছে নিল। নবান্নের এই পদক্ষেপকে পর্যবেক্ষক মহল ‘রাজনৈতিক ভারসাম্যের কৌশল’ বলে আখ্যা দিচ্ছে।

সোমবার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালকে পাঠানো এক চিঠিতে মুখ্য সচিব মনোজ পান্ত জানান—চার জনের মধ্যে দুই জনকে নির্বাচন সম্পর্কিত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে কোনও সাসপেনশন হয়নি। বর্তমানে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।

কমিশনের নজরে আসা চার আধিকারিক হলেন—

  • দেবত্তম দত্ত চৌধুরী (ERO) ও তথাগত মণ্ডল (AERO), বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

  • বিপ্লব সরকার (ERO) ও সুদীপ্ত দাস (AERO), মৈনা বিধানসভা কেন্দ্র, পূর্ব মেদিনীপুর

তাছাড়া, ফর্ম-৬ প্রসেসিংয়ে জড়িত অস্থায়ী ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারের বিরুদ্ধে এফআইআর করার সুপারিশও করেছে ইসি।

উল্লেখ  চিঠিতে পান্ত উল্লেখ করেছেন—জেলা ও ব্লক পর্যায়ের আধিকারিকদের বহু দায়িত্ব থাকে, এবং অনেক কাজই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অধস্তনদের উপর ন্যস্ত করা হয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই দীর্ঘদিনের “দায়িত্বশীল ও দক্ষ” আধিকারিকদের সাসপেন্ড করা প্রশাসনের বৃহত্তর কর্মীবাহিনীকে মনোবলহীন করে দিতে পারে।

পাশাপাশি এই মুহূর্তে, এএআরও সুদীপ্ত দাস এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারকে নির্বাচন দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত রিপোর্ট কমিশনে জমা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্য সচিব।

জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রামে একটি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ঘোষণা করেছিলেন—এই ইস্যুতে কোনও আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার পেছনে ছিল প্রশাসনিক অসন্তোষ এড়ানোর কৌশল। নবান্নের সর্বশেষ পদক্ষেপ সেই অবস্থানকেই প্রতিফলিত করছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, কমিশনের সাসপেনশন তালিকায় থাকা দুই ডব্লিউবিসিএস এক্সিকিউটিভ অফিসারের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেবলমাত্র একজন অধস্তন কর্মী এবং একজন চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে দায়িত্বমুক্ত করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলতে থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বিলম্ব হতে পারে। নবান্নের এক আধিকারিক বলেন, “ইসি এই আংশিক সাড়া মেনে নেবে কি না, নাকি নতুন নির্দেশ দিয়ে চাপ বাড়াবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।”

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks