spot_img
25 C
Kolkata
Sunday, December 7, 2025
spot_img

নির্দিষ্ট সাজা শেষে দণ্ডিতদের অবিলম্বে মুক্তি: সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :

নির্দিষ্ট মেয়াদে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা সাজার পুরো সময় কাটিয়ে ফেললে তাদের মুক্তির জন্য আলাদা কোনও সরকারি অনুমতির প্রয়োজন নেই — এমনই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি বিভি নাগরত্ন ও বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ জানিয়ে দিল, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সংশোধনাগারগুলিতে এমন বন্দিদের তালিকা দ্রুত তৈরি করে অবিলম্বে মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে এই নির্দেশ আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাদের মুক্তি এখনও ‘সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড’-এর অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল থাকবে।

এই নির্দেশের সূত্রপাত এক বহুল আলোচিত খুনের মামলার দণ্ডিত সুখদেব যাদব ওরফে পহেলওয়ানকে ঘিরে। ২০০২ সালে দিল্লির ব্যবসায়ী নীতীশ কাটরার হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয় পহেলওয়ান। আদালত তাকে ২০ বছরের জন্য ‘ফিক্সড–টার্ম লাইফ সেনটেন্স’ দেয়।
এই সাজা ২০২৫ সালের ৯ মার্চ শেষ হলেও, আচরণগত কারণে ‘সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড’ তার মুক্তির আবেদন খারিজ করে। শেষমেশ শীর্ষ আদালতে আবেদন জানালে ২৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট মুক্তির নির্দেশ দেয়।

পহেলওয়ানকে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জেলে রাখায় আদালতের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। বেঞ্চের কটাক্ষ,

“এ কেমন আচরণ? এভাবে চললে তো সব আসামিই জেলে মারা যাবে।”

বিচারপতিদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের সাজা পূর্ণ হলে মুক্তির জন্য কোনও অতিরিক্ত অর্ডারের দরকার নেই। আইন স্পষ্ট, কিন্তু তার ব্যাখ্যা ভুলভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

২০০২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি বিয়েবাড়ি থেকে নীতীশ কাটরাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই মামলায় বিকাশ যাদব ও বিশাল যাদবও দোষী সাব্যস্ত হয়, যাদের সাজা হয় ২৫ বছর।
নীতীশের সম্পর্ক ছিল বিকাশের বোন ভারতীর সঙ্গে, যিনি উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ ডিপি যাদবের মেয়ে। রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কই এই খুনের মূল কারণ বলে মনে করা হয়।

দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অর্চনা পাঠক দাভে যুক্তি দেন — ‘লাইফ টার্ম’ মানেই আমৃত্যু সাজা, তাই পহেলওয়ান মুক্তির যোগ্য নন। কিন্তু পহেলওয়ানের আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সিদ্ধার্থ মৃদুল পাল্টা যুক্তি দেন, সাজা পূর্ণ হলে তাকে আটক রাখার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

এই রায় শুধু পহেলওয়ান নয়, সারা দেশের এমন শতাধিক দণ্ডিতের জন্য দিশা দেখাবে, যাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় মুক্তি আটকে আছে। আদালতের নির্দেশে সংশোধনাগারগুলির উপর চাপ তৈরি হবে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks