কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : রাঁচি
ঝাড়খণ্ডে পুলিশের গুলিতে প্রাক্তন বিজেপি নেতা সূর্য হাঁসদার মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপি সহ বিরোধী শিবিরের অভিযোগ— এটি কোনও সাধারণ এনকাউন্টার নয়, বরং পরিকল্পিত ‘ঠান্ডা মাথার খুন’। ঘটনাটি সিবিআই বা হাই কোর্ট-নিযুক্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডি।
সূত্রের খবর, গত ১১ আগস্ট গোড্ডা জেলার জির্লি-ধামনি পাহাড়ের কাছে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান সূর্য হাঁসদা। পুলিশের দাবি, বেআইনি অস্ত্র রাখা-সহ একাধিক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। জেরায় তিনি অস্ত্র লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। সেই অস্ত্র উদ্ধার করতে দেওঘর থেকে গোড্ডা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল অভিযুক্তকে। কিন্তু পথে তিনি পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং এক পুলিশ অফিসারকে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি চালায় এবং তাতেই মৃত্যু হয় সূর্য হাঁসদার। পুলিশের দাবি— ঘটনাটি সম্পূর্ণ আইনি নিয়ম মেনেই ঘটেছে।
তবে মৃতের পরিবার ও বিজেপির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, সূর্য হাঁসদা ছিলেন হেমন্ত সোরেন সরকারের সমালোচক এবং দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরোধী কণ্ঠ। তাই তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। বাবুলাল মারান্ডির অভিযোগ, পুলিশের একাংশ অপরাধীদের আড়াল করতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে এবং এই ঘটনার পিছনেও সেই চক্র সক্রিয়।
সূর্য হাঁসদা রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে চারবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর বিজেপি রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন মুন্ডা মৃত নেতার পরিবারকে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনা ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন সংঘাতের সূচনা করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ— রাজ্যে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে, পুলিশ রাজনৈতিক নির্দেশেই কাজ করছে। অন্যদিকে, শাসক পক্ষের দাবি— আইন নিজের পথে চলেছে, অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।




