কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ পান্তকে কড়া নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র এবং পূর্ব মেদিনীপুরের মাইনা বিধানসভা কেন্দ্রের চার জন সরকারি আধিকারিককে বরখাস্ত ও এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ বাস্তবায়নে মুখ্যসচিবকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
বুধবার দুপুরে দিল্লির অশোক রোডে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন মনোজ পান্ত। জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে কমিশনের নির্দেশ কেন এখনও কার্যকর হয়নি, সে বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন সিইসি। জবাবে মুখ্যসচিব জানান, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট চার আধিকারিকের মধ্যে দু’জনকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। তবে কমিশনের মতে, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়—বরখাস্তের নির্দেশ সরাসরি কার্যকর করতে হবে।
যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
কমিশনের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত চার আধিকারিক হলেন—
-
দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী (ইআরও, বারুইপুর পূর্ব)
-
তথাগত মণ্ডল (এইআরও, বারুইপুর পূর্ব)
-
বিপ্লব সরকার (ইআরও, মাইনা)
-
সुदীপ্ত দাস (এইআরও, মাইনা)
এছাড়াও, অভিযোগ রয়েছে, সুরজিত হালদার নামে এক অস্থায়ী ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ভোটার তালিকার ফর্ম-৬ প্রক্রিয়াকরণে অনিয়ম করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
সূত্রের খবর, বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট বলেন—“আপনাকে একটি সাধারণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তা কার্যকর করতে কোথায় অসুবিধা? কমিশনের কর্তৃত্ব সম্পর্কে তো আপনি ভালোভাবেই জানেন।” এর উত্তরে মুখ্যসচিব জানান, তিনি কমিশনের নিয়ম সম্পর্কে অবগত, তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের উপর নির্ভর করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই আধিকারিকদের বরখাস্তের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন।
আসন্ন সরকারি ছুটির মধ্যেও ৭ দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন। কলকাতায় ফিরে মুখ্যসচিব এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নবান্ন যদি কমিশনের নির্দেশ আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে রাজ্য–কমিশন সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।




