spot_img
22 C
Kolkata
Friday, December 5, 2025
spot_img

প্রেম ও স্বপ্নের মাশুল: গুজরাটে লিভ-ইন সম্পর্কের কারণে মেডিক্যাল পড়ুয়া তরুণীকে খুন, অভিযুক্ত বাবা ও কাকা !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :গুজরাট, 

কদিকে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, অন্যদিকে নিজের পছন্দের মানুষের সঙ্গে সংসার — এই স্বাধীনতা বেছে নেওয়াই চরম মাশুল দিল গুজরাটের তরুণী চন্দ্রিকা চৈধুরী। অভিযোগ, মেয়ের লিভ-ইন সম্পর্ক ও স্বাধীনচেতা জীবনধারা মানতে না পেরে তাঁকে গলা টিপে হত্যা করেছে নিজের বাবা সেন্ধাভাই প্যাটেল ও কাকা শিবরামভাই প্যাটেল। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সারা দেশে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪৭৮ নম্বর পেয়ে NEET উত্তীর্ণ হয়েছিলেন চন্দ্রিকা। সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগও ছিল হাতে। প্রেমিক হরেশ চৌধুরীর সঙ্গে থাকতেন তিনি। কিন্তু এই সম্পর্ক মানতে পারেনি তাঁর পরিবার। হরেশের দাবি, চন্দ্রিকার কাকা শিবরামভাই একদিন কলেজে গিয়ে তাঁদের একসঙ্গে পড়াশোনা করতে দেখে বাবাকে বলেন, “মেয়েকে এখানে পাঠানো উচিত নয়।” এরপর থেকেই বাড়িতে তাঁকে আটকে রাখা শুরু হয়।

পুলিশে দায়ের হওয়া এফআইআর অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন বাবা সেন্ধাভাই। কিছুক্ষণ পর ভাই শিবরামকে সঙ্গে নিয়ে মেয়ের গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। এরপর প্রমাণ লোপাটে দ্রুত দেহ দাহ করা হয় বলে অভিযোগ।

গ্রামবাসীদের বিভ্রান্ত করতে প্রথমে শিবরাম জানান, চন্দ্রিকার মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকে হয়েছে। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর সত্য। এফআইআরে আরও উল্লেখ আছে, মৃত্যুর আগে বাবা মেয়েকে বলেছিলেন, “দুধ খেয়ে ভালো করে বিশ্রাম কর, ঘুমোলে শরীর চাঙ্গা হয়ে যাবে।”

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেমিক হরেশকে মেসেজ পাঠান চন্দ্রিকা — “আমাকে নিয়ে যাও, নাহলে ওঁরা আমার বিয়ে দিয়ে দেবে। আমি রাজি নাহলে মেরে ফেলবে। বাঁচাও আমাকে।” হরেশের দাবি, পরিবারের সম্মানরক্ষার নামে এই হত্যাকাণ্ড আসলে “অনর কিলিং”-এর জঘন্য উদাহরণ।

পুলিশ কাকা শিবরামভাইকে গ্রেফতার করেছে। বাবা সেন্ধাভাই এখনও পলাতক। বনসকাঁঠা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যেখানে পারিবারিক মানসিকতা ও সামাজিক কুসংস্কার মিলিয়ে এক তরুণীর জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks