কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা, ১৫ আগস্ট
‘ কলকাতা মেট্রো টানেল থেকে যুবকের দেহ উদ্ধার, নিরাপত্তা ঘিরে উঠছে তীব্র প্রশ্ন !
স্বাধীনতা দিবসের রাতে ঘটনার পর চাঞ্চল্য শহরে ‘
স্বাধীনতা দিবসের রাতে এক রহস্যজনক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল শহরে। পার্ক স্ট্রিট ও ধর্মতলা মেট্রো স্টেশনের মাঝের সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার হল এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মৃতদেহ। মেট্রোর মতো কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে এমন ঘটনা সামনে আসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় সোয়া ২টো নাগাদ আরপিএফ (RPF)-এর হেল্পলাইন থেকে নিউ মার্কেট থানায় খবর পৌঁছয় যে, পার্ক স্ট্রিট স্টেশন থেকে প্রায় ১১২ মিটার দূরে, এসপ্ল্যানেডমুখী টানেলে এক যুবকের দেহ পড়ে রয়েছে। রাতের অন্ধকারে এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও আরপিএফের যৌথ দল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃত যুবকের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তাঁর ডান হাতের কব্জিতে পোড়ার মতো দাগ মিলেছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। সেই কারণে মৃতের ছবি কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের সমস্ত থানায় পাঠানো হয়েছে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য।
প্রশ্ন উঠছে— কড়া নজরদারির মধ্যে কীভাবে ওই যুবক সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকলেন? মেট্রো স্টেশনগুলিতে সর্বক্ষণ সিসিটিভি নজরদারি ও নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনা ঘটায় কর্তৃপক্ষও বিব্রত। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পুরো শহরে ছিল হাইঅ্যালার্ট। এমন পরিস্থিতিতেও এই প্রবেশপথ কীভাবে নজর এড়াল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ওই সময়ের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে একই রকম ঘটনা ঘটেছিল। সে বার রবীন্দ্র সরোবর স্টেশন থেকে প্রায় সাড়ে ৭০০ মিটার ও টালিগঞ্জ স্টেশন থেকে এক কিলোমিটার দূরে টানেলের মধ্যে এক ব্যক্তির দেহ মিলেছিল। পরে জানা যায়, তিনি মেট্রো নির্মাণ কাজে যুক্ত চুক্তিভিত্তিক ঠিকা কর্মী ছিলেন।
নতুন ঘটনার সঙ্গে পুরনো ঘটনার কোনও মিল রয়েছে কি না, তা নিয়েও চলছে তদন্ত। পুলিশের এক সিনিয়র অফিসার জানিয়েছেন, “যুবকের পরিচয় বের করা এবং তিনি টানেলে প্রবেশ করলেন কীভাবে— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।”
শহরের পরিবহন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘটনাটি প্রমাণ করছে যে, যাত্রী নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এখনও ফাঁক রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এর পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলেই তাঁদের সতর্কবার্তা।




