কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : শ্রীনগর, ১৫ আগস্ট:
জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ারের চোসিতি গ্রাম যেন এক রাতেই রূপ নিল মৃত্যুকূপে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে তীব্র ধ্বংসযজ্ঞ চালায় আকস্মিক বন্যা। মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় গ্রামের একাধিক বাড়ি, দোকান ও অস্থায়ী তীর্থযাত্রীদের রান্নাঘর (কমিউনিটি কিচেন)। ভেতরে থাকা অসংখ্য যাত্রী ধরা পড়েন জলের প্রচণ্ড স্রোতে।
সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা অন্তত ৫৬—যাঁদের বেশিরভাগই তীর্থযাত্রী। নিখোঁজ রয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ১২, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭। শুক্রবার সকালে নতুনভাবে উদ্ধার হওয়া একাধিক দেহ এই সংখ্যাকে ঠেলে দেয় ৫৬-তে। জেলা প্রশাসন আশঙ্কা করছে, আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কিশতওয়ারের জেলা শাসক পঙ্কজ শর্মা শুক্রবার জানান, “বৃহস্পতিবার রাতে এনডিআরএফের একটি বিশেষ দল গুলাবগড় পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে। চোসিতি গ্রামে বিপর্যয়ের পরিধি এতটাই বড় যে, আরও দুই দল এনডিআরএফকে নামানো হচ্ছে।”
Courtesy ANI X
এনডিআরএফ ছাড়াও সেনাবাহিনীর রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের একাধিক কলাম, এসডিআরএফ, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে কাজ করছেন।
ভারতীয় সেনার হোয়াইট নাইট কর্পস-এর অন্তর্গত পাঁচটি কলাম—প্রতিটি ৬০ জন করে, অর্থাৎ মোট প্রায় ৩০০ সেনা—চিকিৎসক দলসহ উদ্ধারকাজে নেমেছে। সেনা সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল থেকে নিখোঁজদের খোঁজে একাধিক এলাকা চষে ফেলা হচ্ছে, কিন্তু এখনও অনেকেই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
Courtesy ANI X
প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া রান্নাঘরটি বিপর্যয়ের সময় পূর্ণ ছিল তীর্থযাত্রীতে। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “আমরা খাবার নিচ্ছিলাম, হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দের সঙ্গে জল ঢুকে গেল ভেতরে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চারপাশে কেউ আর ছিল না।”
জম্মু ও কাশ্মীর সরকার জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলবে দিন-রাত এক করে। নিখোঁজদের পরিবারের জন্য হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন সকলকে বিপর্যয়প্রবণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চালাচ্ছে।




