spot_img
22 C
Kolkata
Friday, December 5, 2025
spot_img

লালকেল্লা থেকে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা: ‘নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেল বরদাস্ত নয়’ — প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা : নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট: 


৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের পরমাণু হামলার হুমকির কার্যত জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরাসরি নাম না করলেও তাঁর ইঙ্গিত যে ইসলামাবাদের দিকেই, তা স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন— “ভারত কোনও নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেল বরদাস্ত করবে না। দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করেছি, কিন্তু আর নয়। এই ধরনের চেষ্টা হলে ভারতীয় সেনা উপযুক্ত জবাব দেবে।”

প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ভারতকে হুমকি দিয়েছিলেন— “আমরা পরমাণু শক্তিধর দেশ। আমরা যদি ডুবি, অর্ধেক বিশ্বকে নিয়ে ডুবব।” শুধু তাই নয়, গুজরাটের জামনগরে আম্বানি গোষ্ঠীর তেল শোধনাগারে হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া পূর্ব দিক থেকে আক্রমণের ইঙ্গিতও দেন।

মোদীর এই বক্তব্যে সেই হুমকির সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখা গেল। যদিও তিনি পাকিস্তান বা মুনিরের নাম উচ্চারণ করেননি, তবু সবার কাছেই বার্তাটি স্পষ্ট হয়ে গেছে।

পহেলগাম হামলার পরেই ভারত সিন্ধু জলচুক্তি কার্যত বাতিলের পথে হাঁটেছিল। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকেও সেই অবস্থান পুনরায় জোর দিয়ে বলেন মোদী— “নিজেদের তৃষ্ণার্ত রেখে শত্রুদের জল দেওয়া হবে না। সিন্ধুর জলে ভারতের কৃষকদের অধিকার থাকবে। জল আর রক্ত একসঙ্গে বইতে পারে না।”

সম্প্রতি ভারতীয় সেনার সফল সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে মোদী কটাক্ষ করে বলেন— “অপারেশন সিঁদুরের পরে পাকিস্তানের ঘুম উড়ে গিয়েছে।”

শুধু কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বার্তা নয়, প্রধানমন্ত্রী এদিন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারতের দিকেও জোর দেন। তিনি ঘোষণা করেন :

  • সেমিকন্ডাক্টর খাতে মিশন মোডে কাজ চলছে।

  • চলতি বছরের শেষেই ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ চিপ বাজারে আসবে।

  • জ্বালানি ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যপূরণে দ্রুত পদক্ষেপ চলছে।

মোদীর এই ভাষণকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা দ্বিমুখী বার্তা হিসেবে দেখছেন— একদিকে পাকিস্তানের পরমাণু হুমকিকে কড়া ভাবে প্রতিহত করা, অন্যদিকে দেশের জনগণকে আত্মনির্ভরতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাধীনতা দিবসের এই ভাষণ শুধু প্রতিরক্ষা নীতির দৃঢ়তা নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাসকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks