কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা,১৬ আগস্ট :
শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গোটা দেশজুড়ে উৎসবের আবহ। মথুরা থেকে বৃন্দাবন, জয়পুর থেকে নোয়ডা— সর্বত্রই মন্দিরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়েছে। জন্মাষ্টমী মানেই কৃষ্ণভক্তদের কাছে এক বিশেষ দিন। শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে সারা দেশ জুড়ে মন্দিরগুলো সেজে ওঠে ফুল, আলো আর সাজসজ্জায়। মঙ্গল আরতির ধ্বনি, ঘণ্টার আওয়াজ, মন্ত্রপাঠ আর ভজন— ভক্তির আবহে ভরে ওঠে চারিদিক।
মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দিরে এদিন সকালে মঙ্গল আরতির আয়োজন হয়। হাজার হাজার ভক্ত সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রার্থনা জানান। বিশ্বাস করা হয়, এই স্থানেই জন্মেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। অন্যদিকে, নোয়ডার ইস্কন মন্দিরে দিনভর চলেছে কীর্তন, ভজন এবং নানা পূজার্চনা। ভক্তরা ভিড় জমিয়েছেন মন্দির প্রাঙ্গণে, প্রভু কৃষ্ণের আশীর্বাদ লাভের আশায়।
মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুরের প্রেম প্রতীক মন্দিরে এদিন বিশেষ আরতি অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তরা ভগবানকে নানা উপাদানে ভোগ নিবেদন করেন। রাজস্থানের জয়পুরে ঐতিহাসিক গোবিন্দ দেবজি মন্দিরে ছিল উপচে পড়া ভিড়। মন্দির চত্বরে এদিন এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
শাস্ত্র মতে, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতেই ভগবান কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। তাই এই দিনটির মাহাত্ম্য অপরিসীম। বিশেষত মথুরা ও বৃন্দাবনেই সবচেয়ে বেশি জাঁকজমকের সঙ্গে এই উৎসব পালিত হয়। কারণ মথুরা কৃষ্ণের জন্মভূমি আর বৃন্দাবন তাঁর শৈশবের লীলাভূমি।
রাত বারোটা নাগাদ বিশেষ অভিষেকের আয়োজন হয়। দুধ, দই, ঘি, মধু আর জল দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি স্নান করানো হয়। ঘণ্টাধ্বনি, শঙ্খনাদ আর বেদপাঠে ভরে ওঠে চারিদিক। এর পর ভোগ নিবেদন করা হয় এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
জন্মাষ্টমীর সঙ্গে সমার্থক হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় দই-হাঁড়ি উৎসব। বিশেষত মহারাষ্ট্রে এর ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়। দই মানে টকদই আর হাঁড়ি মানে মাটির পাত্র। কৃষ্ণকে বলা হয় ‘মাখনচোর’। ছোটবেলায় তিনি বন্ধুদের নিয়ে মানবপিরামিড তৈরি করে দই-দুধে ভরা হাঁড়ি ফাটাতেন। সেই স্মৃতিতেই আজও এই উৎসব পালিত হয়।
দেশজুড়ে ভক্তদের উচ্ছ্বাসে জন্মাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, একতার প্রতীকও বটে। ভক্তির আবহে এদিন মিশে থাকে আনন্দ, আচার আর ঐতিহ্যের সমন্বয়।




