কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা, ১৬ আগস্ট:
হুগলির সিঙ্গুরে এক বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে উদ্ধার হওয়া নার্স দীপালি জানার ঝুলন্ত দেহকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, রাজ্যের অধীনস্থ হাসপাতালে নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের হাসপাতাল—এইমস বা কম্যান্ড হাসপাতালেই ময়নাতদন্ত করা হোক। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসনের উপরে ভরসা নেই, তাই সত্যিটা আড়াল না করতে হলে কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে এই প্রক্রিয়া হওয়া জরুরি।
দীপালির বাবা সুকুমার জানা অভিযোগ করেছেন, নার্সিংহোম আত্মহত্যার দাবি তুললেও মেয়েকে খুন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “বুধবার রাত ১১টা নাগাদ নার্সিংহোম থেকে ফোন করে জানানো হয়, দীপালি আত্মঘাতী হয়েছে। কিন্তু আমরা পৌঁছে যেতেই বলা হয় পুলিশ দেহ নিয়ে গিয়েছে। কোনওভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয় এই ঘটনা।” পরিবারের দাবি, ন্যায়বিচারের জন্য কেন্দ্রীয় হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।
শুক্রবার শ্রীরামপুরের ওয়ালশ হাসপাতাল থেকে দেহ আনা হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে। দেহ পৌঁছতেই বিজেপি এবং সিপিএম কর্মীদের মধ্যে প্রবল বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। মৃতদেহের ‘অধিকার’ নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকে দুই পক্ষ। বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ বলেন, “পরিবার চাইছে এমস বা কম্যান্ড হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হোক। আমরা তাদের পাশে আছি, দায়িত্বও আমাদের।”
অন্যদিকে এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে অভিযোগ করেছেন, “তৃণমূলের হয়ে বিজেপি মৃতার পরিবারকে প্রভাবিত করছে। তৃণমূল সামনে আসার সাহস পাচ্ছে না, তাই বিজেপিকে ঢাল বানিয়েছে।”
সিপিএমের দাবি, বিজেপি ইচ্ছে করে ‘রাজনীতি’ করে সরকারকে সুবিধা পাইয়ে দিতে চাইছে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, বামেরা তৃণমূলকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। ফলে মর্গের সামনে কার্যত রাজনৈতিক তরজা চলেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
মাত্র ক’দিন আগেই বেঙ্গালুরু থেকে নার্সিং পড়ে ফিরে আসেন দীপালি। নন্দীগ্রামের বাসিন্দা এই তরুণী সিঙ্গুরের বোড়াই তেমাথা এলাকার এক নার্সিংহোমে কাজে যোগ দেন বন্ধুর সূত্রে। বুধবার রাতে সেখানেই এক ঘরে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, নার্সিংহোমের মালিক ও দীপালির প্রেমিকের ভূমিকা সন্দেহজনক। ইতিমধ্যেই পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করেছে।
পুলিশের অবস্থান
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার তথ্য উঠে এলেও পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও দীপালির দেহ প্রাথমিক ভাবে কলকাতা পুলিশ মর্গে সংরক্ষিত করা হলেও আজ ভোরে দীপালির দেহ নেই যাওয়া হয়েছে AIIMS কল্যাণী তে ।
দুই দিন ধরে শ্রীরামপুর থেকে কলকাতা—সব জায়গায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার ওয়ালশ হাসপাতালের সামনেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন সিপিএম ও বিজেপি কর্মীরা। শুক্রবার কলকাতায়ও দেখা গেল একই দৃশ্য। মর্গের ভেতরে দেহ, বাইরে গন্ডগোল, আর গাড়ির ভিতরে অসহায়ভাবে বসেছিলেন দীপালির বাবা-মা।
সিঙ্গুরের নার্স দীপালির মৃত্যু নিয়ে পরিবার, রাজনীতি ও প্রশাসনের মধ্যে চাপানউতোর তীব্র হচ্ছে। পরিবারের দাবি, কেন্দ্রীয় হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হলে সত্যিটা প্রকাশ পাবে।
হুগলির সিঙ্গুরে নার্সিংহোম থেকে উদ্ধার হওয়া এক তরুণী নার্সের ঝুলন্ত দেহকে ঘিরে জটিলতা বাড়ল। মৃতার পরিবারের দাবি, ময়নাতদন্ত কোনও রাজ্য-নিয়ন্ত্রিত হাসপাতালে নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের হাসপাতালেই হোক। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্য প্রশাসনের উপর ভরসা রাখা যাচ্ছে না। তাই কম্যান্ড হাসপাতাল কিংবা এইমসেই ময়নাতদন্ত করা হোক।
শুক্রবার দুপুরে শ্রীরামপুরের ওয়ালশ হাসপাতাল থেকে মৃত নার্সের দেহ কলকাতা নিয়ে আসা হয়। দেহ সংরক্ষণে রাখা হয় কলকাতা পুলিশ মর্গে। তবে ময়নাতদন্তের স্থান নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠে ।
বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ বলেন, “মৃতার বাবা একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী। সেই সূত্রে পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।” অন্যদিকে সিপিএম অভিযোগ করেছে, বিজেপি ইচ্ছে করেই এই ঘটনায় অযথা রাজনৈতিক রঙ দিতে চাইছে। তাঁদের বক্তব্য, “সরকারকে সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই আত্মহত্যার তত্ত্বে জোর দেওয়া হচ্ছে।”
গত বৃহস্পতিবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালের সামনে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে সিপিএম ও বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। শুক্রবারও একই চিত্র দেখা যায়। একাধিকবার পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।
পরিবারের দাবি, মৃত তরুণীর মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ নয়, এর পিছনে রহস্য রয়েছে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে ময়নাতদন্ত করানো জরুরি।প্রাথমিক ভাবে দেহ সংরক্ষিত করা হয় কলকাতা পুলিশ মর্গে ,আর সেই নিয়ে রাজ্য সরকার এই দাবিতে রাজি হবে কিনা, তা নিয়েই শুরু হয় জল্পনা, শেষমেশ আজ ভোরে দীপালির দেহ নেই যাওয়া হয় AIIMS কল্যাণী তে ।
এই ঘটনার ফলে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য দপ্তর—সব ক্ষেত্রেই চাপানউতোর তীব্র হচ্ছে। একদিকে পরিবারের আস্থা কেন্দ্রীয় তদন্তে, অন্যদিকে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষে দায় এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে।যদিও এখন AIIMS কল্যাণী তে ময়নাতদন্তের পর পরিস্তিথি কোনদিকে যায় সময়ের সাথে সেটাই দেখার, অন্নদিকে দীপালির মৃত্যু নিয়ে বহু প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় খাবেন তার পরিবার এবং সাধারণ মানুষ ।




