কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : মুম্বই ,১৬ আগস্ট :
মুম্বইয়ের হাসপাতালে চাঞ্চল্য
অন্তঃসত্ত্বা বাংলাদেশি বন্দি পালালেন, পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
মুম্বই শহরে ঘটল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মুম্বইয়ের জে জে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেলেন বাংলাদেশি এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা বন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ব্যবহার করে নিজের নামে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর নাম রুবিনা ইরশাদ শেখ (২৫), বাংলাদেশের বাসিন্দা।
মুম্বই পুলিশ গত ৭ অগস্ট রুবিনাকে গ্রেপ্তার করে। জন্মের ভুয়ো শংসাপত্রের মাধ্যমে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করার অভিযোগেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইন এবং ফরেনার্স অ্যাক্ট-সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেপ্তারের সময়েই রুবিনা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গত ১১ অগস্ট জ্বর এবং ত্বকের সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বইয়ের জে জে হাসপাতালে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানেই রাখা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু ১৪ অগস্ট দুপুরে ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ, হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কনস্টেবলকে ধাক্কা মেরে ভিড়ের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যান রুবিনা। ফলে তাঁকে আটকানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে মুম্বই পুলিশ। শহরের বিভিন্ন এলাকায় চালানো হচ্ছে তল্লাশি। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাস, হোটেল থেকে শুরু করে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের এলাকায়ও খোঁজ চালানো হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে ধরতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে পুলিশের নজরদারি নিয়ে। জেল থেকে হাসপাতালে আনা বন্দিদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছিল কি না, তা নিয়েই উঠছে বিতর্ক।
এমন ঘটনায় সরকারের বিরোধী রাজনৈতিক মহলও সরব হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, “পুলিশের গাফিলতির কারণেই এত বড় ঘটনা ঘটল।” অন্যদিকে পুলিশের দাবি, অন্তঃসত্ত্বা বন্দিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনতেই হয়েছিল। কিন্তু ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ছিল।
বর্তমানে ওই বাংলাদেশি মহিলার খোঁজে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপরতা নিচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—অন্তঃসত্ত্বা বন্দির হাসপাতাল থেকে পালানোয় পুলিশের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা কতটা সামনে আসে।




