spot_img
25 C
Kolkata
Sunday, December 7, 2025
spot_img

সুপ্রিম কোর্টের বার্তা: “দত্তক প্রক্রিয়া কষ্টকর ও হতাশাজনক, অবিলম্বে বদল প্রয়োজন” !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :  নয়াদিল্লি,১৬ আগস্ট :

বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলীর কলমে :

 ভারতে শিশু দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে শীর্ষ আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ। দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতাকে সরাসরি “কষ্টকর ও হতাশাজনক” বলে আখ্যা দিল সুপ্রিম কোর্ট। দুই বিচারপতি বিভি নাগারত্ন ও কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছে, সন্তানহীন দম্পতি ও অপেক্ষারত অনাথ শিশুদের স্বার্থে দ্রুত সংস্কার আনা জরুরি।

২০২২ সালে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়। তাঁদের অভিযোগ ছিল— ‘সেন্ট্রাল অ্যাডপশন রিসোর্স অথরিটি’ (CARA)-র অধীনে দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া এতটাই দীর্ঘ যে, প্রায় তিন থেকে চার বছর সময় লেগে যায়। অথচ দেশের প্রায় তিন কোটি অনাথ শিশুর মধ্যে গড়ে বছরে মাত্র চার হাজারকে দত্তক দেওয়া হয়। ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যাও ৪,৫০০ ছাড়ায়নি।

অভিযোগের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালত সংস্থার প্রধান পীযূষ সাক্সেনাকে রিপোর্ট তৈরি করতে বলে। সেই রিপোর্টেও একই তথ্য উঠে আসে— দীর্ঘ আইনি পদ্ধতির কারণে সন্তানহীন দম্পতিরা বছর বছর অপেক্ষা করলেও অসংখ্য শিশু আশ্রয়ের অভাবে বঞ্চিত হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতিদের মন্তব্য—

  • সন্তানহীনতার যন্ত্রণা বহন করা দম্পতির কাছে এই দীর্ঘসূত্রিতা “অসহনীয়”।

  • ভারতে গড়ে সাড়ে তিন বছর ধরে দত্তকের অপেক্ষা করতে হয়, যা “কাঙ্ক্ষিত নয়।”

  • বর্তমানে দত্তক নেওয়ার জন্য ৩৬ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা রয়েছে, অথচ প্রক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে ধীর।

আদালত আরও জানায়, “এত দীর্ঘ প্রতীক্ষা শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং আবেদনকারীদের মানসিক যন্ত্রণা দুইয়ের জন্যই ক্ষতিকর।”

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি শিশুকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার আগে বহু বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।

  • দত্তক নেওয়া পরিবার আর্থিকভাবে কতটা সচ্ছল

  • তাঁদের শংসাপত্র কতটা বৈধ

  • শিশুর নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত

এই যাচাইয়ের প্রক্রিয়াই দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। সরকারের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় তারা।

ভারতে দত্তক গ্রহণের নিয়ম মূলত পরিচালিত হয়—

  • হিন্দু দত্তক গ্রহণ ও ভরণপোষণ আইন, ১৯৫৬

  • শিশু সুরক্ষা আইন, ২০০০

পূর্বে সুপ্রিম কোর্ট এই আইনগুলির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। দত্তকের বৈধতা, পদ্ধতি এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় আদালতের ভূমিকা ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ— দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া সরল ও দ্রুত করতে হবে। সন্তানহীন দম্পতি এবং অনাথ শিশু, উভয়ের স্বার্থে “আইনি পদ্ধতির জটিলতা ভেঙে স্বচ্ছ, কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”

এখন চোখ সকলের কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে। আদালতের পর্যবেক্ষণের পর দত্তক প্রক্রিয়ায় সংস্কার আনার পদক্ষেপ কত দ্রুত নেওয়া হয়, সেটাই দেখার।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks