কলকাতা টাইমস নিউজ : কলকাতা, ১৮ অগস্ট:
অগস্টে বৃষ্টির কৃপণতা কাটিয়ে ফের দক্ষিণবঙ্গে সক্রিয় হচ্ছে মৌসুমি সিস্টেম। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্ত শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উত্তর–পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে, অন্ধ্রপ্রদেশ–ওডিশা উপকূল থেকে কিছুটা পূর্ব দিকে এই নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছে বলে আলিপুর হাওয়া অফিস সূত্রে খবর।
আবহবিদরা জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি সোমবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে অন্ধ্র–ওডিশা সীমানা বরাবর স্থলভাগে প্রবেশ করবে। যদিও এই সিস্টেম সরাসরি বাংলাকে আঘাত করবে না, তবে এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প টেনে দক্ষিণবঙ্গের আকাশ ভরাবে ঘন মেঘে। ফলে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর মনে করছে, এই নিম্নচাপ কেটে যাওয়ার পরই বঙ্গোপসাগরের উত্তরে, বাংলার উপকূল ঘেঁষেই ফের একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। এর জেরে সপ্তাহের শেষ দিকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে। বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “ওডিশা–অন্ধ্রের নিম্নচাপ সরাসরি প্রভাব ফেলবে না। তবে ২২ ও ২৩ অগস্ট দক্ষিণবঙ্গে নতুন ঘূর্ণাবর্তের কারণে বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বর্ধমান, ২৪ পরগনা, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।”
জুলাই মাসে টানা বৃষ্টির পর অগস্টে দক্ষিণবঙ্গ কার্যত বৃষ্টিহীন। ১ থেকে ১৭ অগস্ট পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৫২ মিমি, যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ৩৭২.১ মিমি। অর্থাৎ, গড় বৃষ্টির তুলনায় এখনও ৬০ শতাংশেরও বেশি ঘাটতি রয়েছে। আবহবিদরা মনে করছেন, আসন্ন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্ত সেই ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে—
-
সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব–পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা।
-
মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের ১৫টি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ–সহ মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
-
বুধবার কলকাতা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে বৃষ্টির প্রাবল্য বেশি থাকবে।
-
২২ অগস্ট: মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টি (৭–১১ সেমি) হতে পারে।
-
২৩ অগস্ট: উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি।
অগস্ট মাসের প্রথমার্ধে যখন বৃষ্টি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন কৃষি ও পানীয় জলের সঙ্কট নিয়ে চিন্তা বাড়ছিল। বিশেষত ধান চাষে জলের অভাব প্রকট হচ্ছিল দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। তাই, এই নিম্নচাপ ও সম্ভাব্য ঘূর্ণাবর্ত যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টি নামায়, তবে কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তবে, ভারী বৃষ্টির ফলে জল জমে শহরে জলাবদ্ধতার সমস্যা এবং গ্রামীণ এলাকায় ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।




