কলকাতা টাইমস নিউজ : কলকাতা, ১৮ অগস্ট:
আসন্ন সপ্তাহ রাজনৈতিক দিক থেকে রাজ্যে ব্যস্ত হয়ে উঠতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডেকেছেন নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক। অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফের জেলাওয়াড়ি সাংগঠনিক বৈঠক শুরু করতে চলেছেন। ফলে প্রশাসন ও দল – দুই দিকেই নজর থাকছে রাজনৈতিক মহলের।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় হামলা এবং আক্রমণের অভিযোগ উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মন্ত্রিসভাকে আলোচনায় বসাতে চলেছেন। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারের বৈঠকে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। শাসকদলের একাংশের দাবি, “বাঙালিদের উপর আক্রমণ হলে রাজ্য সরকার চুপ করে বসে থাকতে পারে না।”
অন্যদিকে, দলীয় সংগঠন মজবুত করতে মঙ্গলবার থেকে ফের শুরু হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা ভিত্তিক সাংগঠনিক বৈঠক। এবার নজরে তমলুক সাংগঠনিক জেলা। ক্যামাক স্ট্রিটে ডাকা হয়েছে জেলা সভাপতি সুজিত রায়, মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, বিপ্লব রায়চৌধুরী, নবনিযুক্ত চেয়ারপার্সন অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পাঁশকুড়ার নেতা আনিসুর রহমান-সহ একাধিক প্রবীণ ও শাখা সংগঠনের নেতৃত্বকে।
দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে আগামী বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের কৌশল ও স্থানীয় সংগঠনের ভিত মজবুত করার রূপরেখা তৈরি হবে। সুজিত রায় বলেন, “আসন্ন ভোটের প্রস্তুতি নিয়েই আলোচনা হবে।”
তমলুক সাংগঠনিক জেলায় দীর্ঘদিন ধরেই সমন্বয়ের অভাব এবং গোষ্ঠী কোন্দলের অভিযোগ রয়েছে। বিজেপি ২০২৪ লোকসভা ভোটে এই আসনে প্রায় ৭৭ হাজার ভোটে জয় পেয়েছিল। ফলে আসন্ন বৈঠকে অভিষেক যে কঠোর বার্তা দেবেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের অভিজ্ঞ এক তৃণমূল নেতা বলেন, “কেবল তমলুক সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বকে ডাকা হয়েছে। কাঁথি জেলা এদিনের বৈঠকের অংশ নয়। অভিষেক পর্যাপ্ত সময় নিয়ে তমলুকের নেতৃত্বকে বার্তা দেবেন।”
একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা বৈঠক, অন্যদিকে অভিষেকের সাংগঠনিক বৈঠক—রাজ্যের রাজনীতিতে সপ্তাহের শুরু থেকেই চর্চার কেন্দ্রে উঠে আসছে তৃণমূল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের উপর আক্রমণের প্রসঙ্গকে হাতিয়ার করে মমতা প্রশাসনিক কড়া পদক্ষেপ নিলে, অভিষেক সাংগঠনিক স্তরে কৌশল তৈরি করবেন ভোটের জন্য।




