কলকাতা টাইমস নিউজ : কলকাতা, ১৮ অগস্ট:
বারাসতের হৃদয়পুর শিবতলা এলাকায় নিখোঁজের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর পুকুর থেকে উদ্ধার হলো এক কিশোরের দেহ। রবিবার দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিল সে। অবশেষে সোমবার ভোর রাতে ওই কিশোরের দেহ ভেসে ওঠায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
পুলিশ সূত্রে খবর, সাড়ে ছয় বছরের ওই কিশোরের বাড়ি বারাসতের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কৈলাসনগর মাঠ সংলগ্ন এলাকায়। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ স্থানীয়দের চোখে পড়ে তাকে পুকুরের ধারঘেঁষা এলাকায় ঘুরতে। তারপর থেকেই সে আর বাড়ি ফেরেনি। বহু খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না মেলায় পরিবার থানায় খবর দেয়।
বারাসত থানার পুলিশ তদন্তে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। তাতে স্পষ্ট হয়, কিশোরটিকে শেষবার দেখা গিয়েছে পুকুরপাড়েই। রাত গভীর হলে পুলিশ পুকুরের ধারে শিশুটির জুতো পড়ে থাকতে দেখে। জোরদার তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে ভোর রাতে পুকুর থেকে ভেসে ওঠে কিশোরের নিথর দেহ।
কিশোরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার পুকুর সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেননি পুর মাতা শুক্লা ঘোষ। ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। তাঁদের কথায়, পুকুরের পাড় যদি আগে থেকেই সংস্কার করা হতো, তবে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এড়ানো যেত।
স্থানীয় বাসিন্দা চঞ্চল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশ দুপুর ১২টা থেকে খোঁজ শুরু করেছিল। সিসিটিভি দেখেছে, আশেপাশে ফাঁকা বাড়িগুলোতেও খুঁজেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেহটা মিলল পুকুরেই। এই ঘটনার দায় পুরসভারই।”
কিশোরের মৃত্যু কীভাবে হলো—জলে ডুবে, নাকি অন্য কোনও কারণে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দেহ পাঠানো হয়েছে বারাসত হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য। তবে ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা পুর মাতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে শুক্লা ঘোষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এখন প্রশ্ন একটাই—একটি শিশুর প্রাণহানির পর প্রশাসন কি নড়েচড়ে বসবে, নাকি আবারও অভিযোগ আর ক্ষোভের মধ্যেই থেমে যাবে তদন্ত?




