কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লি, ১৯ অগস্ট:
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে আয়োজিত এই বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।
সোমবার টেলিফোনে কথোপকথনের সময় পুতিন তাঁর এই আলোচনার বিষয়বস্তু প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ভাগ করে নেন। সেই প্রসঙ্গে মোদি এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) লেখেন— “বন্ধু প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ধন্যবাদ জানাই ফোন করে আলাস্কায় ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের বিশদ জানাবার জন্য।”
মোদি আরও স্পষ্ট করেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের অবস্থান একই রকম রয়েছে— শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় সমর্থন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত সব সময় সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেই থেকেছে এবং এ ব্যাপারে যে কোনও উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি। আগামিদিনে আমাদের এই আলাপচারিতা আরও চলবে বলে আশা রাখি।”
উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠক হয়। যদিও বৈঠক থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি, দুই নেতা একে অপরের সঙ্গে আলোচনা ‘গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন প্রশাসন কিছুদিন আগেই ভারত থেকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানির সঙ্গে যুক্ত পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা ধার্য করেছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, ভারত কম দামে রাশিয়ার তেল কিনে মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টায় পরোক্ষভাবে অর্থ জোগাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই আলাস্কা বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়— “আমরা আলাস্কার শীর্ষ বৈঠককে স্বাগত জানাই। শান্তির খোঁজে দুই নেতার নেতৃত্ব প্রশংসনীয়। অগ্রগতি স্পষ্ট হলেও, সামনের পথ শুধুই সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সম্ভব। বিশ্ব এখন ইউক্রেন সংঘাতের দ্রুত অবসান চাইছে।”
বৈঠকের শেষে ট্রাম্প বলেন— “আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও পূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। কোনও চুক্তি হয়নি, যতক্ষণ না চূড়ান্ত চুক্তি হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এখন বল মূলত ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কোর্টে। ইউরোপীয় দেশগুলোকেও কিছুটা দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু মূলত জেলেনস্কিকেই উদ্যোগী হতে হবে।”
ইউক্রেন যুদ্ধ চতুর্থ বছরে পড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত থামাতে আলাস্কা বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শান্তির পথে বাস্তব অগ্রগতি কতটা সম্ভব হবে, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির নজরকাড়া প্রশ্ন।




