কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা , ২০ অগস্ট:
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফের জানিয়ে দিলেন, দল আর বহুপদ আঁকড়ে থাকার রাজনীতি বরদাস্ত করবে না। সাংগঠনিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্লক স্তর থেকে শুরু করে শাখা সংগঠন পর্যন্ত সর্বত্র রদবদল আসছে। মূলমন্ত্র— ‘এক ব্যক্তি, এক পদ।’ একই সঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামকে ঘিরে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিশেষ পরিকল্পনা নিতে চলেছেন বলেও স্পষ্ট করলেন তিনি।
মঙ্গলবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তমলুক সাংগঠনিক জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক জানান, নন্দীগ্রাম বিধানসভাকে ঘিরে পৃথক বৈঠক করবেন তিনি। তবে তার দিনক্ষণ এখনই স্থির হয়নি। বৈঠকে উপস্থিত এক প্রবীণ নেতা বলেন, “অভিষেক স্পষ্ট করেছেন যে, নন্দীগ্রামের জন্য আলাদা কৌশল দরকার। ব্লক ও অঞ্চল স্তরের নেতা ছাড়াও জেলা সভাপতি এবং চেয়ারপার্সনরাও সম্ভবত থাকবেন সেই বৈঠকে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২১-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের পর থেকে নন্দীগ্রাম জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্র। সেই স্মৃতি এখনো টাটকা।
শুভেন্দু ২০২১-এর বিধানসভা, ২০২৩-এর পঞ্চায়েত ও ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে নন্দীগ্রামে বিজেপির দাপট বজায় রেখেছেন। এবার সেই ঘাঁটিতে ধাক্কা দিতেই অভিষেক নতুন রোডম্যাপ তৈরি করছেন বলে মনে করছে দলের একাংশ। অভিজ্ঞ নেতাদের দাবি, নন্দীগ্রামের সংগঠন পুনর্গঠন করে ভোটের কৌশল তৈরির জন্য আলাদা কোর কমিটি গড়তে পারেন অভিষেক।
২০২৪ লোকসভা ভোটে পূর্ব মেদিনীপুরের সব বিধানসভায় বিজেপি এগিয়ে ছিল। তাই অভিষেক তমলুক জেলার নেতাদের সরাসরি বার্তা দিয়েছেন—
“লোকসভার ফল খারাপ হয়েছে। কিন্তু বিধানসভায় বিজেপিকে প্রতিটি আসনে মোকাবিলা করতে হবে।”
বৈঠকে জেলা সভাপতি সুজিত রায় ও হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরাসরি রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। তবে অন্য নেতারা সেই সুরে সুর মেলাননি। এ প্রসঙ্গে ঋতব্রত বলেন, “অভিযোগ থাকলে প্রমাণ দিন।”
তবে শুধু তমলুকই নয়, বারাসত সাংগঠনিক জেলাতেও কোন্দলের ছবি স্পষ্ট। কখনও ব্যক্তিগত কুরুচিকর মন্তব্য, কখনও সম্পর্কের টানাপড়েন— সবই বৈঠকে উঠে এসেছে।
এই সমস্ত অশান্তি মেটাতে অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— দল ঐক্যবদ্ধভাবেই ২০২৬-এর লড়াইয়ে নামবে। প্রবীণ ও নবীনদের সমন্বয়েই সংগঠনকে শক্তিশালী করা হবে। একই সঙ্গে ঘোষণা করেন –
-
এক ব্যক্তি, এক পদ নীতি কঠোরভাবে মানতে হবে।
-
চল্লিশোর্ধ্ব কেউ যুব সংগঠনের নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না।
-
ব্লক সভাপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির মতো একাধিক পদে আর কাউকে রাখা হবে না।
অন্যদিকে বারাসতের সাংগঠনিক সভাপতি কাকলি ঘোষদস্তিদার বলেন, “একটা সংসারে যেমন ঝামেলা হয়, দলেও কিছুটা হয়। কিন্তু সবই আলোচনার মাধ্যমে মিটে যায়।”
অপরদিকে প্রবীণ নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানান, “দল প্রবীণদের গুরুত্ব দিচ্ছে। নবীনদের সঙ্গে মিলে আমরা একসঙ্গেই লড়াই করব।”
সব মিলিয়ে অভিষেকের বার্তা স্পষ্ট— ভাঙন নয়, ঐক্য চাই। কোন্দল নয়, কৌশল চাই। আর সেই কৌশলের কেন্দ্রে নন্দীগ্রাম। কারণ শুভেন্দুর গড়ে জয় ছাড়া ২০২৬-এর সমীকরণ পাল্টানো সম্ভব নয়, তা তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব খুব ভালভাবেই জানে।




