কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ২০ অগস্ট:
কলকাতার যাতায়াত ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক দিন আসতে চলেছে আগামী ২২ অগস্ট। শহরের নাগরিকদের জন্য মেট্রোর সুবিধা আরও বিস্তৃত হতে চলেছে। এবার একসঙ্গে তিনটি নতুন রুট চালু হবে কলকাতা মেট্রোয়। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা শেষ করে শিয়ালদহ–এসপ্ল্যানেড, নোয়াপাড়া–জয় হিন্দ (বিমানবন্দর) এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (রুবি)–বেলেঘাটা মেট্রো রুটের উদ্বোধন হবে সেদিন।
এই তিনটি রুট মিলিয়ে প্রায় ১৪ কিলোমিটার নতুন পথ যুক্ত হবে কলকাতার পাতালপথে। এর ফলে হাওড়া থেকে শিয়ালদহ পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ১১ থেকে ১২ মিনিট। ব্যস্ত শহরে ট্র্যাফিক জ্যাম, সিগন্যালে অপেক্ষা বা গরমে হাপিত্যেশ করার দিন শেষ—এমনটাই আশা করছেন যাত্রীরা।
শিয়ালদহ–এসপ্ল্যানেড রুট (গ্রিন লাইন)
শিয়ালদহ থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত সংযুক্ত হওয়ার ফলে হাওড়া–সল্টলেক মেট্রো লাইন আরও গতিশীল হবে।
এই লাইনে মোট ১২টি স্টেশন থাকছে—হাওড়া ময়দান, হাওড়া, মহাকরণ, এসপ্ল্যানেড, শিয়ালদহ, ফুলবাগান, সল্টলেক স্টেডিয়াম, বেঙ্গল কেমিক্যাল, সিটি সেন্টার, সেন্ট্রাল পার্ক, করুণাময়ী ও সল্টলেক সেক্টর ফাইভ।
নোয়াপাড়া–জয় হিন্দ (বিমানবন্দর) রুট (ইয়েলো লাইন)
বিমানবন্দর যাত্রীদের জন্য স্বস্তির খবর। এই সেকশনে মোট চারটি স্টেশন থাকবে—নোয়াপাড়া, দমদম ক্যান্টনমেন্ট, যশোহর রোড ও জয় হিন্দ (বিমানবন্দর)। ফলে শহরের উত্তর দিক থেকে সরাসরি বিমানবন্দর যাওয়া আরও সহজ হবে।
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (রুবি)–বেলেঘাটা রুট (অরেঞ্জ লাইন)
অরেঞ্জ লাইনে যাত্রীরা পাবেন পাঁচটি নতুন স্টেশন—হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (রুবি), ভিআইপি বাজার, ঋত্বিক ঘটক (বানতলা রোড), বরুণ সেনগুপ্ত (সায়েন্স সিটি) ও বেলেঘাটা। এই লাইন মূলত দক্ষিণ–পূর্ব কলকাতার বাসিন্দাদের যাতায়াতে বিশেষ সুবিধা দেবে।
ভাড়া কাঠামো
মেট্রোর নতুন রুটগুলিতে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ টাকা।
-
বিমানবন্দর থেকে যশোহর রোড অবধি ভাড়া ৫ টাকা।
-
বিমানবন্দর থেকে নোয়াপাড়া ২০ টাকা, বেলগাছিয়া ৩০ টাকা, সেন্ট্রাল ৩৫ টাকা।
-
মহানায়ক উত্তমকুমার অবধি ভাড়া ৪০ টাকা, কবি সুভাষ ৪৫ টাকা।
-
বিমানবন্দর থেকে হাওড়া যাওয়া যাবে ৫০ টাকায়।
-
বিমানবন্দর থেকে রুবি বা বেলেঘাটা যাওয়া যাবে ৬৫ টাকায়।
-
বিমানবন্দর থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ বা করুণাময়ী পৌঁছতে লাগবে ৭০ টাকা।
মেট্রোর নতুন এই তিনটি রুট চালু হলে শহরের পরিবহণে এক বড় রকম পরিবর্তন আসবে। বিশেষত বিমানবন্দরগামী যাত্রী, পূর্ব কলকাতার বাসিন্দা এবং হাওড়া–শিয়ালদহের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
সুতরাং বলা যায়, ২২ অগস্ট কলকাতার গণপরিবহণের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আর কলকাতাবাসীর যাতায়াতের ইতিহাসে যুক্ত হবে এক ঐতিহাসিক পালক।




