spot_img
25 C
Kolkata
Monday, February 16, 2026
spot_img

গ্রেপ্তার হলে পদচ্যুত হবেন প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীরা, লোকসভায় নতুন বিল আনছে মোদী সরকার !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা : নয়াদিল্লি, ২০ অগস্ট:

তুন বিতর্ক উসকে দিল মোদী সরকার। গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে যদি কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মন্ত্রী গ্রেপ্তার বা আটক হন, তবে সরাসরি পদচ্যুত করার মতো কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব আনতে চলেছে কেন্দ্র। বুধবার লোকসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কী বলছে বিল

প্রস্তাবিত বিলে উল্লেখ করা হয়েছে : –

  • প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী যদি এমন কোনও অপরাধে গ্রেপ্তার হন, যার শাস্তি ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা তার বেশি, এবং টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তবে তাঁকে সরাসরি পদ থেকে অপসারণ করা হবে।

  • জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন, ২০১৯-এর ৫৪ নম্বর ধারায় নতুন উপধারা (৪এ) যুক্ত করার প্রস্তাব থাকছে।

  • সেই অনুযায়ী, কোনও মন্ত্রী ৩০ দিন হেফাজতে কাটালে, ৩১তম দিনে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে লেফটেন্যান্ট গভর্নর তাঁকে অপসারণ করবেন। মুখ্যমন্ত্রী যদি নীরব থাকেন, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ওই মন্ত্রী ৩১তম দিনে পদচ্যুত হবেন।

এছাড়াও সংবিধানের ৭৫, ১৬৪ এবং ২৩৯এএ অনুচ্ছেদ সংশোধনের কথাও বলা হয়েছে বিলে। অর্থাৎ, এই আইন কার্যকর হলে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একই নিয়ম বলবৎ হবে।

কেন আসছে এই বিল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারির ঘটনাই এই বিল আনার পেছনে মূল অনুঘটক। আবগারি কেলেঙ্কারি মামলায় গ্রেপ্তার হলেও কেজরিওয়াল পদত্যাগ করেননি। বরং জেল থেকেই সরকার চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। মোদী সরকারের নতুন পদক্ষেপকে সেই বিতর্কের প্রেক্ষিতেই দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে লোকসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার অমিত শাহ মোট তিনটি বিল পেশ করবেন। এর মধ্যে দুটি হবে সংবিধান সংশোধনী বিল। পেশের পর বিলগুলোকে সংসদীয় কমিটির হাতে পাঠানো হতে পারে পুনর্বিবেচনার জন্য।

এই বিল কার্যকর হলে ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন নজির সৃষ্টি হবে। এর ফলে গুরুতর অপরাধে জড়িত কোনও জনপ্রতিনিধি কারাগার থেকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে এটি সুশাসন ও নৈতিক রাজনীতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অন্যদিকে বিরোধীরা একে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবেও দেখতে পারে।

এক কথায়, মোদী সরকারের এই উদ্যোগ ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks