কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা : হিমাচল প্রদেশে , ২০ অগস্ট:
প্রবল বর্ষণ, হড়পা বান এবং ধসের পর এবার ভূমিকম্পের ধাক্কায় আরও একবার আতঙ্ক ছড়াল হিমাচল প্রদেশে। বুধবার ভোরে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে চম্বা জেলায় দুটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্প হয় রাত ৩টা ২৭ মিনিটে, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩.৩। কেন্দ্রস্থল ছিল চম্বাই। ঠিক এক ঘণ্টা পরে, সকাল ৪টা ৩৯ মিনিট নাগাদ ফের কেঁপে ওঠে পাহাড়ি জেলা। দ্বিতীয় কম্পনের মাত্রা ছিল আরও বেশি—রিখটার স্কেলে ৪.০। ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল।
যদিও ভূমিকম্পের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে প্রবল বৃষ্টি এবং ধারাবাহিক ধসের মধ্যে ভূমিকম্পের খবরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। বিশেষত চম্বা, মান্ডি, কুল্লু এবং কিন্নর জেলায় ইতিমধ্যেই প্রকৃতির একের পর এক আঘাতে জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত।
হিমাচল প্রদেশ রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিএমএ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টানা ধসের ফলে রাজ্যের প্রায় ৩৭৪টি রাস্তা এখনও বন্ধ। বিদ্যুৎ সরবরাহে ভাঙন ধরেছে—অচল হয়ে পড়েছে ৫২৪টি ট্রান্সফরমার। জল সরবরাহের অবস্থা একই রকম করুণ। প্রায় ১৪৫টি পাইপলাইন অকেজো হয়ে পড়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন বহু বাসিন্দা।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক। ৩০৫ নম্বর ও ৫ নম্বর জাতীয় সড়কের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। ফলে পাহাড়ি জেলার সঙ্গে রাজধানী শিমলা এবং অন্যত্র সংযোগ বিপর্যস্ত।
আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে, আগামী কয়েক দিনও হিমাচল প্রদেশে বৃষ্টি চলতে পারে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে মানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি রাস্তা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “প্রকৃতির এই ধারাবাহিক বিপর্যয়ে মানুষের নিরাপত্তাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকাজ, রাস্তাঘাট মেরামত ও বিদ্যুৎ-জল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।”
চম্বা ও আশপাশের গ্রামগুলিতে এখনও আতঙ্ক কাটেনি। প্রবল বৃষ্টি আর ধসের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মধ্যে রাতের অন্ধকারে টানা দুটি ভূমিকম্প তাঁদের মনোবল আরও দুর্বল করেছে। পাহাড়ের ঢালে বা ভাঙা রাস্তায় বসবাসকারীরা বিশেষভাবে শঙ্কিত।
হিমাচলের এই পরপর প্রাকৃতিক বিপর্যয় ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, পাহাড়ি অঞ্চলে পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে।




